অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামগড়া ও এর আশপাশে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই একদল ভুয়া চিকিৎসক চেম্বার খুলে বসেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: বিকল্প ডেন্টাল: এখানে চিকিৎসা দিচ্ছেন কথিত ডাক্তার শামীম। মোহাম্মদ ডেন্টাল: প্রোভাইডার হিসেবে আছেন জহির নামক জনৈক ব্যক্তি। রকি ডেন্টাল: এখানে চিকিৎসা দিচ্ছেন জয়নাল। হাজী ডেন্টাল: পরিচালনা করছেন রুহুল নামক জনৈক ব্যক্তি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিএমডিসি (BMDC) আইন অনুযায়ী, বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু এই চক্রটি কোনো রকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই নিজেদের বিশেষজ্ঞ দাবি করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, চিকিৎসার নামে জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এই চক্রটি। সাধারণত ডেন্টাল ফিলিং বা ক্রাউন বসানোর জন্য উন্নতমানের ‘ডেন্টাল সিমেন্ট’ ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও, খরচ বাঁচাতে এরা ব্যবহার করছে সস্তা ও ক্ষতিকারক সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ পারদ(কপার এমাল গাম) জুতার আঠা (ডেন্ড্রাইট বা সুপার গ্লু জাতীয়)।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কেমিক্যাল সরাসরি পেটে গেলে লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া অনিরাপদ সরঞ্জামের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ায় রোগীদের মধ্যে হেপাটাইটিস বি, সি এমনকি এইচআইভি (HIV) সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে এসব ক্লিনিক গজিয়ে উঠলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো নজরদারি নেই। ভুয়া ডাক্তারদের হাতে অপচিকিৎসার শিকার হয়ে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগী এক পোশাক শ্রমিক জানান: “দাঁত ব্যথার জন্য গিয়েছিলাম রকি ডেন্টালে। তারা কোনো পরীক্ষা ছাড়াই দাঁত তুলে সেখানে আলগা দাঁত লাগিয়ে দেয়। পরে জানতে পারি তারা সাধারণ আঠা ব্যবহার করেছে, যার গন্ধে আমি এখন আর কিছু খেতে পারছি না।”
বিএমডিসি আইন অনুযায়ী, ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে ডাক্তারি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এসব অনুমোদনহীন ক্লিনিকগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হোক এবং এই প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনা হোক। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
আগামীতে জামগড়ার সকল ডেন্টাল নিয়ে বিস্তারিত আসছে….
এবিডি.কম/জাহাঙ্গীর আলম রাজু