নিজস্ব প্রতিবেদক,সাভার (আশুলিয়া)।। ঢাকার আশুলিয়ার আমিন মডেল টাউন এলাকায় একটি কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মৃত মুরগি জবাই ও প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য তৈরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এই অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে তিন সংবাদকর্মী কারখানার ভেতরে অবরুদ্ধ এবং হুমকির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির নাম “এমএস ফারদিন এন্টারপ্রাইজ”। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে মৃত ও রোগাক্রান্ত মুরগি প্রক্রিয়াজাত করে “নন্দন ফুডস” ব্র্যান্ডের নামে চিকেন টি-বলসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করছে। এছাড়া এসব প্রক্রিয়াজাত করা অস্বাস্থ্যকর মাংস “গোল্ডেন হার্ভেস্ট” নামের আরেকটি নামকরা খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানেও সরবরাহ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার কবিরপুর তেলিবাড়ী বাজার রোড সংলগ্ন আমিন মডেল টাউন এলাকায় গড়ে ওঠা এই কারখানাটিতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মুরগী প্রক্রিয়াজাত করা হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, কারখানার আশপাশে মরা মুরগির বর্জ্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং এলাকাবাসী চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. লোকমান হোসেন স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের মোটা অঙ্কের চাঁদা (ম্যানেজ) দিয়ে অবৈধভাবে এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লোকমান হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, কারখানাটিতে মৃত মুরগি প্রক্রিয়াজাতকরণের খবর পেয়ে সত্যতা যাচাই ও ভিডিও ধারণ করতে যান তিন সংবাদকর্মী। তারা হলেন-মো. আশরাফ আলী (স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক ঘোষণা) খোকন হাওলাদার (সাভার প্রতিনিধি, দৈনিক দেশের কণ্ঠ) মো. রুবেল আকন (আশুলিয়া প্রতিনিধি, আজকের প্রতিদিন)
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, তারা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে “এমএস ফারদিন এন্টারপ্রাইজ”-এর ভেতরে তাদের ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক আটকে (অবরুদ্ধ) রাখা হয় এবং অশালীন আচরণ করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক লোকমান হোসেন ও তার ছেলে ফারদিনসহ বেশ কয়েকজন মিলে সাংবাদিকদের নানা রকম ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করার ও মৃত মুরগি প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত বা মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা হবে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এমন গুরুতর অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। অবিলম্বে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কারখানাটিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এবিডি.কম/রাজু