নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকার এক দম্পতির সম্পাদিত একটি নোটারি এফিডেভিটকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। এফিডেভিটে জহির উদ্দীন ও জাকিয়া সরকার তাদের ছেলে জোবায়ের আহম্মেদ লিজেনের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিটটি সম্পাদিত হয়। এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০৪। নথিতে জহির উদ্দীন (এনআইডি: ১৪৫৪৭১৫৬১৪) এবং জাকিয়া সরকার (এনআইডি: ৬৮৫৪৯২৮৬৮৩), ঠিকানা—বাসা-১২ (৫ম তলা), রোড-০৫, নিকুঞ্জ-২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯—তাদের ছেলে জোবায়ের আহম্মেদ লিজেনের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন। নথিটি প্রস্তুত ও সম্পাদনের সঙ্গে অ্যাডভোকেট সোলিমুল্লাহ এবং অ্যাডভোকেট আশিকুর রহমান যুক্ত ছিলেন। এফিডেভিটটির একটি অনুলিপি প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
এফিডেভিটে দাবি করা হয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ছেলের ব্যক্তিগত জীবনধারা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে তারা এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা জোবায়ের আহম্মেদ লিজেনকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছেন এবং তার সঙ্গে সব ধরনের পারিবারিক সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন করেছেন।
এফিডেভিটে আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি জোবায়ের আহম্মেদ লিজেনের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ, লেনদেন বা সম্পর্ক না রাখার অনুরোধও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নথিতে উল্লেখ রয়েছে, তিনি যেন পারিবারিক বাসভবন বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা সেখানে ফিরে আসার চেষ্টা না করেন। এ বিষয়ে নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, তিনি ফিরে এলে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে জহির উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ছেলেকে ইসলামি মূল্যবোধ অনুযায়ী বড় করেছেন এবং শরিয়াহ মোতাবেক তার বিয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন। তবে তার দাবি, ছেলের যৌন পরিচয় ও ব্যক্তিগত জীবনধারাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এসব কারণেই তিনি ও তার স্ত্রী প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে এফিডেভিট সম্পাদন করেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পাদিত কোনো এফিডেভিট ব্যক্তিগত ঘোষণা হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে এর মাধ্যমে উত্তরাধিকার, সম্পত্তির অধিকার বা অন্য কোনো আইনগত অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয় না। এসব বিষয় প্রচলিত আইন এবং প্রয়োজন হলে আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত জোবায়ের আহম্মেদ লিজেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।