চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনায় আসা শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে।
আজ বুধবার সকালে বিজিবির পক্ষ থেকে ডেভিড ইমনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে অপরাধ জগতে ডেভিড ইমনের উত্থান ঘটে। বর্তমানে সে চট্টগ্রামে সাজ্জাদ গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। গত বছরের চন্দনপুরায় গাড়িতে গুলি করে জোড়া খুন, পতেঙ্গা সৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যাকাণ্ড এবং সরোয়ার হোসেন বাবলা খুনের ঘটনায় ইমনের নাম সামনে আসে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৩ জুলাই চট্টগ্রামের ‘ডিজিটাল ডটনেট’ নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং ৩৫ লাখ টাকা ও মালামাল লুটের ঘটনায় সে নতুন করে আলোচনায় আসে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রামের এই অপরাধ চক্রটি মূলত তিন স্তরের (থ্রি-টায়ার) একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে পরিচালিত হয়। প্রথম স্তরে রয়েছেন বিদেশে আত্মগোপনে থাকা সাজ্জাদ হোসেন খান ও হাবীব খানের মতো মাস্টারমাইন্ডরা, যারা ইন্টারনেট অ্যাপের মাধ্যমে চাঁদা দাবি করেন।
দ্বিতীয় স্তরে রয়েছেন ডেভিড ইমনের মতো স্থানীয় সমন্বয়ক এবং কিছু হোয়াইট কলার ইনফর্মার, যারা ব্যবসায়ীদের নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠান। আর তৃতীয় স্তরে রয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং বা ভাসমান অপরাধীদের নিয়ে গঠিত ‘হিট স্কোয়াড’, যারা টাকার বিনিময়ে সরাসরি হামলা ও গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।