তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে সম্ভাব্য হত্যার হুমকির মুখে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে উড়োজাহাজ বদল করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে তাকে বিশাল ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এ উঠতে দেখা গেলেও পরে গোপনে খাবারবাহী একটি ট্রাকে করে অপেক্ষাকৃত ছোট উড়োজাহাজে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গত ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারা বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর সম্প্রতি প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। ওহাইও থেকে ফিরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ঘটনার সত্যতাও নিশ্চিত করেন ট্রাম্প।
জানা গেছে, সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের নিরাপত্তায় এই বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠানো হয়। এরপর খাবারবাহী একটি ট্রাকের আড়ালে তাকে গোপনে অন্য একটি উড়োজাহাজে নেওয়া হয়। ওই উড়োজাহাজটি ছিল তুলনামূলক ছোট সি-৩২এ।
ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়ার পরও মূল এয়ারফোর্স ওয়ানটি খালি রাখা হয়নি। হোয়াইট হাউসের কর্মী ও সাংবাদিকদের নিয়ে সেটি যথারীতি আকাশে উড়ে যায়। ফলে ট্রাম্পের উড়োজাহাজ বদলের বিষয়টি গোপন রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য হামলাকারীদের বিভ্রান্ত করার ব্যবস্থাও করা হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, পুরো সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ছিল সিক্রেট সার্ভিসের। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা যেভাবে কাজ করতে চেয়েছে, তিনি সেটিই অনুসরণ করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি সিক্রেট সার্ভিসের হাতে থাকে। তারা যেভাবে কাজ করতে পছন্দ করে, আমি কেবল তা-ই অনুসরণ করি। তারা চেয়েছিল সমান নিরাপত্তার অন্য একটি ফ্লাইটে আমি ভ্রমণ করি, তাই আমি তা-ই করেছি। সোজা কথায়, তারা যা বলে, আমি তা-ই করি।’
তবে সম্ভাব্য হত্যার হুমকি নিয়ে নিজের মধ্যে কোনো ভয় কাজ করছে না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি হুমকিতে ভয় পাই না। আমি হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট, আর এ কারণেই আমার কাছে এত হুমকি আসে।’
ঘটনাটির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল, এয়ারফোর্স ওয়ানের ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের কেউই ট্রাম্পের উড়োজাহাজ বদলের বিষয়টি টের পাননি। নিরাপত্তা পরিকল্পনা এতটাই গোপন রাখা হয়েছিল যে, ট্রাম্পকে অন্য উড়োজাহাজে সরিয়ে নেওয়ার পরও সাংবাদিকরা আগের উড়োজাহাজেই ছিলেন।
এদিকে ইরানের বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। ইরানের ওপর তার গভীর অবিশ্বাস রয়েছে জানিয়ে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, গত ৫০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যে দাদাগিরি দেখিয়েছে, তার অবসান হয়েছে। ইরান নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ‘পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হবে’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।