বাল্যবিয়ে ঠেকাতে ভুয়া কোর্ট ম্যারেজ, জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ
নাঈম বিশ্বাস কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়া আদালত চত্বরে সক্রিয় কতিপয় অসাধু নোটারি পাবলিক আইনজীবী ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আদালত। কোর্ট ম্যারেজ ভুয়া বিয়ে জাল তালাকনামা এবং বাল্যবিয়ের নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা ও ঠকবাজি বন্ধে স্ব-প্রণোদিত (সুও মোটো) হয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
জঘন্য এই প্রতারণায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারপূর্বক আদালতে সোপর্দ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে কুষ্টিয়ার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ‘জাস্টিস অব দি পিস’ মোঃ ফিরোজ মামুন এ আদেশ জারি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালত পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, আদেশের কপি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং আদালতে উপস্থাপিত বিভিন্ন কাগজপত্রের মাধ্যমে পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, কুষ্টিয়া কোর্ট প্রাঙ্গণে নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে বাল্যবিবাহ ও ভুয়া কাবিননামা সম্পাদনের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এটি বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ সহ দেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিনিয়ত এ ধরনের অপরাধ ঘটছে মর্মে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং প্রমাণের অনুলিপিও আদালতে পৌঁছেছে। মূলত “কোর্ট ম্যারেজ” নামে বেআইনিভাবে এফিডেভিট সম্পাদন করে বাল্যবিয়ে ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
আইনি ব্যাখ্যায় বলা হয়, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৯ ধারা অনুযায়ী বাল্যবিয়ে সম্পাদন বা পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ছাড়া ১১ ধারায় ভুয়া ও বাল্যবিয়ে নিবন্ধনের শাস্তি এবং জড়িতদের লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে। এই ধরনের অপরাধসমূহ আমলযোগ্য (Cognizable) এবং কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়।
আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ (CrPC)-এর ২৫ ধারার অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ১৬ ধারা অনুযায়ী এই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কোনো অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করতে হবে। আগামী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার জন্য কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশের বিষয়টি স্বীকার করে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, আদালত চত্বরে প্রতারক চক্রের মাধ্যমে ভুয়া কোর্টম্যারেজ, বাল্যবিয়ে ও জাল তালাকনামা তৈরির যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশ আমরা পেয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। জনপ্রতারণায় জড়িত অসাধু চক্রকে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার্ ও আদালতে সোপর্দ করা হবে।