মেঘনায় ট্রলারডুবি: দুদিন পর ৩ ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ বাবা
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনার দুদিন পর নিখোঁজ একই পরিবারের তিন ভাই-বোনের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ। তবে তাদের বাবা হেলাল উদ্দিন (৫৪) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৫টা থেকে ৮টার মধ্যে উপজেলার বৈদ্যার বাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একে একে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্ধী গ্রামের অটোরিকশাচালক হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজিব (২৪), মেয়ে সামিয়া (১৭) এবং শিশু ছেলে সামিন (৫)।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমদ্ধী এলাকা থেকে গবাদিপশুসহ ১৩ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া গ্রামে আত্মীয়ের বিয়েবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে বৈদ্যার বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীর মাঝপথে পৌঁছালে আকস্মিক বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে তলিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় ও একটি বালুবাহী ট্রলারের মাধ্যমে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে রাশেদা বেগম নামে এক নারীকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় হেলাল উদ্দিন ও তার তিন সন্তান নদীর তলদেশে নিখোঁজ থাকেন।
খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা। দুদিনব্যাপী টানা তল্লাশির পর শনিবার সকালে তিন ভাই-বোনের মরদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিন ভাই-বোনের মরদেহ পাওয়া গেছে। নিখোঁজ থাকা বাবা হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের যৌথ উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।