লিয়াকত হোসেন রাজশাহী:জেলহত্যা দিবসে গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করছেন রাজশাহীর মানুষ। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। রাজশাহীতে ৩ নভেম্বর প্রথম প্রহরেই শুরু হয়েছে দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিকতা।
দিবসটি উপলক্ষে রোববার সকালে রাজশাহী মহানগরীর কাদিরগঞ্জে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
সকালে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শহীদ কামারুজ্জামানের সন্তান এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। পরে তার পরিবারের সদস্যরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কবরস্থানের পাশেই একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। আলোচনা শেষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জেলহত্যা দিবসের প্রথম প্রহর অর্থাৎ রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দোয়া করা হয়। পরে বেলা ১১টায় বের করা হয় শোক র্যালি ও সমাবেশ।
এরপর দুপুরে বিতরণ করা হয় খাবার। রাজশাহী জেলা পরিষদের উদ্যোগেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি পালনে রোববার জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এছাড়া জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারের কার্যালয়ে জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার। সভা পরিচালনা করেন জেলা পরিষদের সদস্য আবুল ফজল প্রামানিক।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ নার্গিস আক্তার, সদস্য আসাদুজ্জামান মাসুদ, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য জয়জয়ন্তী সরকার মালতি, কৃষ্ণা দেবী প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির রাজশাহী জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার। রেড ক্রিসেন্টের জেলা ইউনিট এতে সহায়তা করে। জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা পরিষদ পরিচালিত রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রক্তদান করেন।
এরপর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারের নেতৃত্বে নগরীর কাদিরগঞ্জে জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এর আগে শনিবার রাত ৮টার দিকে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পাশে স্বাধীনতা চত্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের দৌহিত্রী ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা এতে নেতৃত্ব দেন। এর আগে স্বাধীনতা চত্বর থেকে একটি শোক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরীর জিরো পয়েন্ট ঘুরে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সূর্যাদয়ের সাথে সাথে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন নেতাকর্মীরা। সকাল ৭টা থেকে দলীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থান থেকে মাইকে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার করা হচ্ছে।