সুলতান হোসেন।। দিনরাত ছুটে চলা মানুষটিই হলেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় তিনি ছুঁটে চলেছেন উপজেলার আনাচে-কানাচেতে। যেন দম ফুরারও সময় নেই তার। সাথে রয়েছেন আরেকজন। তিনি হলেন আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তাদের দুজনের উদ্দেশ্য হলো এক,সেটা হলো প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস থেকে শহর কিংবা গ্রামের মানুষকে সচেতন করা। তাদের একটাই কথা,লোকজনকে সচেতন করতে পারলেই করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।
সচেতন করেই ক্ষান্ত নন তারা দুজন। গ্রামের মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি অসচ্ছল পরিবারের মাঝে সরকারের দেয়া ত্রাণ সামগ্রী বাড়ী বাড়ী গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন দুজনই।
আবার সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে ছুটে চলেছেন সীমান্তবর্তী এলাকা দুর্গাপুর থেকে ভেলাবাড়ী,সারপুকুর থেকে সাপ্টিবাড়ী,পলাশী থেকে কমলাবাড়ী,ভাদাই লেক মহিষখোচা ইউনিয়নের হাটবাজার গুলোতে। সেখানে কখনও মাইক হাতে ইউএনও আবার কখনও ওসি নিজেই। চলছে মাইকে ব্যাপক প্রচারনা। রাতভর ছুটে চলার পর সকাল হলেই চলে তাদের নতুন নতুন পরিকল্পনা। কিভাবে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস থেকে এখানকার মানুষকে নিরাপদে রাখা যায়। সার্বক্ষনিক ভাবনায় পারে এখানকার মানুষজনকে সচেতন করতে।
এদিকে শহরের লোকজন কিছুটা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখলেও গ্রামের চিত্র ভিন্ন। ঢাকা থেকে বাড়ীতে ফিরে আসা লোকজন হোম কোয়ান্টামে না থেকে ঘুরছেন অবাধে। আবার গ্রামের হাট-বাজার গুলোতে বসছে তামাক ও গরু ছাগলের হাট। এসব হাটবাজার থেকে সামাজিক দুরত্ব কমাতে না পারলেও তাদের এ পরিশ্রম আর মেধা কোন কাজেই আসবে এমনটাই মনে করছেন সুশীল সমাজের লোকজন। তাই তারা অবিরাম ছুটে চলা এ দু’ কর্মকর্তার কাছে জোড়ালো দাবী করছেন অনতিবিলম্বে এসব হাট-বাজার বন্ধ করার।
আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনা মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সবাই সচেতন হলেই আমাদের এ পরিশ্রম সার্থক এমনটাই দাবী এ কর্মকর্তার।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, করোনা মোকাবেলায় ইতিমধ্যে ৭২টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সাথে দিনরাত ঘুরে সাধারান মানুষকে সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা ও অসচ্ছল পরিবারের মাঝে খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।