রাজীব হাসান,বিশেষ প্রতিনিধি।। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনটি রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই আসনে নির্বাচনকে উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে জামায়াতসহ দশ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জন্য মাঠ ‘উন্মুক্ত’ রাখার পক্ষে মত দিচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ ভোটার ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
এছাড়া ঢাকা-২০ আসনে বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দশ দলীয় জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ। তবে ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে নাবিলা তাসনিদ রাজনীতিতে একদমই নতুন মুখ। স্থানীয় ভোটারদের একটি বড় অংশ তাকে চেনেন না বলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভোটারদের মতে, বিএনপির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপরীতে একজন অপরিচিত মুখ নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কঠিন হবে।
ধামরাইয়ের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তমিজ উদ্দিনের অবস্থান বেশ শক্ত। তার সঙ্গে ভোটের মাঠে লড়াই করতে হলে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা কাজী আব্দুর রউফ-কে যোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও জামায়াত নেতার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ পাওয়া যায় বিগত নির্বাচনেও। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মাওলানা আব্দুর রউফ ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ে প্রায় ৪৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। স্থানীয়দের মতে, জামায়াত নির্বাচনী মাঠে থাকলে ভোটের লড়াই ভারসাম্যপূর্ণ হবে এবং ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
আসনটি নিয়ে জোটের শরীক দলগুলোর মধ্যেও ভিন্ন ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে: এবি পার্টি: দলের ভাইস চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন জানান, “আমরা জোটের সিদ্ধান্তে শ্রদ্ধাশীল। তবে ধামরাইয়ের নিজস্ব ঐতিহ্য ও জনমতের ভিত্তিতে জোট যদি পুনরায় সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা ভালো হবে। এ আসনে জামায়াতের আব্দুর রউফ ভাই অত্যন্ত পরিচিত মুখ। এছাড়া দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আশরাফ আলী বলেন,কেন্দ্রীয়ভাবে ১০টি আসনে জোটের বাইরে ‘উন্মুক্ত’ নির্বাচনের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ঢাকা-২০ আসনটি অন্যতম। আমরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।
মাওলানা কাজী আব্দুর রউফ জানান,আমরা সংগঠনের প্রতি আনুগত্যশীল। ২০ তারিখ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত আমরা সাংগঠনিক নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকব। এনসিপি (জোট মনোনীত প্রার্থী): ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বলেন, “আমি নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং জোটের প্রার্থী। আমি জোটের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই এবং সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,শিল্পাঞ্চল ধামরাইয়ে নির্বাচনকে প্রাণবন্ত রাখতে বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ জরুরি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে জনপ্রিয় ও পরিচিত প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া উচিত। জামায়াত প্রার্থীর জন্য মাঠ উন্মুক্ত করে দিলে এ আসনে একটি ‘ত্রিমুখী’ বা ‘চতুর্মুখী’ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে। এখন দেখার বিষয়,২০শে জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ে দশ দলীয় জোট তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে নাকি জনমতের ভিত্তিতে ধামরাই আসনটি উন্মুক্ত করে দেয়।
এবিডি.কম/সিয়াম