নাফিজ আহমেদ(রাজবাড়ী প্রতিনিধি)।। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য রাজবাড়ী জেলা থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৮ জন নারী নেত্রী। গত কয়েকদিনে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তারা এই ফরম সংগ্রহ করেন। জেলা পর্যায় থেকে এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন সংগ্রহের বিষয়টি বর্তমানে রাজবাড়ীর রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী প্রার্থীরা হলেন- রাজবাড়ী জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসমিন আক্তার পিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারজানা ইয়াসমিন ডেইজি, সহ-সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া আক্তার স্মৃতি, সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ফারজানা লিপি, উপজেলা ছাত্রদল নেত্রী পুনম মৃধা, সাকিলা স্বর্ণালী ননী, মনিরা মোস্তফা ওলকা এবং জনৈক এক নেত্রী। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক থেকে শুরু করে তৃণমূলের লড়াকু নেত্রীরা।
রাজবাড়ী ডাঃ আবুল হোসেন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইয়াসমিন আক্তার পিয়া ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকেই রাজপথে সক্রিয়। জেলা মহিলা দলের গুরুত্বপূর্ণ এই নেত্রী দলের দুঃসময়ে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। অন্যদিকে, সাবেক দুইবারের পৌর কাউন্সিলর ফারজানা ইয়াসমিন ডেইজি রাজনৈতিক প্রতিকূলতার এক পরিচিত মুখ। তার স্বামী এস এম সামসুল আলম বাবলু রাজনৈতিক কারণে নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি দমে না গিয়ে উল্টো দ্বিগুণ শক্তিতে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
হামলা-মামলা ও কারাবরণের শিকার হওয়া সোনিয়া আক্তার স্মৃতি জিয়া সাইবার ফোর্সের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ফারজানা লিপি বর্তমানে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের মাধ্যমে নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণ করে চলেছেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পুনম মৃধা জানান, রাজনৈতিক কারণে তাকে চাকরি হারাতে হয়েছে, সহ্য করতে হয়েছে অমানবিক নির্যাতন। তবুও তিনি দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হিসেবে ফরম নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম গোলাম মোস্তফার কন্যা মনিরা মোস্তফা ওলকা এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন গাজীর কন্যা সাকিলা স্বর্ণালী ননী। মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেত্রীরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, রাজপথের আন্দোলন এবং সংগঠনের প্রতি বিশ্বস্ততার বিচারে দল তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। বিশেষ করে যারা বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই সংরক্ষিত আসনে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হবে বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
এবিডি.কম/ ঈশা