দামুড়হুদায় এক যুগ ধরে একই কর্মস্থলে একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল , জুয়াসহ নানা অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় প্রায় এক যুগ ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. রাফিজুল ইসলাম। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাববলয় তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দায়িত্বের বাইরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, শিক্ষকদের ওপর প্রভাব বিস্তার, অর্থ আদায়, অনলাইন জুয়া ও আর্থিক প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাফিজুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মো. রাফিজুল ইসলাম ২০১৫ সালের ১৫ জুন দামুড়হুদা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই পদে থাকার কারণে উপজেলা শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর প্রভাব বেড়েছে। নিয়মিত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকার সুযোগে শিক্ষকদের ওপরও তিনি অযাচিত প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাফিজুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের দাবি, ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। পরে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ তাঁকে একটি রাজনৈতিক পক্ষের ‘এজেন্ট’ হিসেবেও অভিহিত করেন।
এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া ও আর্থিক প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাফিজুল ইসলাম তাঁকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি অনলাইন অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সেটি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সাইট। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, তাঁর মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সাইটে টাকা দিয়ে কয়েকজন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ ছাড়া উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে অনিয়মের অভিযোগে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন বলেও স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা তৎকালীন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়ভাবে আরও আলোচনা রয়েছে, ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা আলী মুনসুর বাবুকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে রাফিজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। নির্বাচন শেষে তাঁর নিজ এলাকা কুষ্টিয়ায় পাঁচ কাঠা জমি ও একটি পালসার মোটরসাইকেল কেনার বিষয় নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব সম্পদ কেনার সঙ্গে কোনো অনিয়ম বা রাজনৈতিক প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়েও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকলে একজন কর্মকর্তার স্থানীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত প্রভাব তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। তাই প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী তাঁর পোস্টিং ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. রাফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাঁর পদে সহজে পদোন্নতি হয় না এবং এ পদে কর্মস্থল পরিবর্তনের সুযোগও সহজ নয়। নারীঘটিত বিষয় ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।