কালুখালীতে মেয়ের ফেসবুক পোস্ট কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর হামলা, বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
নাফিজ আহমেদ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর কালুখালীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নজরুল ইসলাম খান (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে গোলাপী বেগম নামে এক নারীকে আটক করেছে। নিহত নজরুল ইসলাম বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবার জানায়, সম্প্রতি ‘Ru Na’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে লেখা ছিল— “কিরে শুনলাম এলাকার কোন ফেরেশতা হুজুরিনির মেয়ে বলে কট খাইলো? সবাই চুপ কেন এখন?” পরবর্তীতে ওই পোস্টেরই কমেন্ট বক্সে একই আইডি থেকে প্রতিবেশী পরিবারকে ইঙ্গিত করে বেশ কিছু মন্তব্য করা হয়।
ওই ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে শুক্রবার সকালে নজরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সাথে প্রতিবেশী ইমান সরদার, তাঁর স্ত্রী বুলু, ছেলে তুহিন ও মেয়ে গোলাপীর কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় প্রতিবেশীরা সংবদ্ধ হয়ে নজরুল ইসলাম খানকে বেধড়ক মারধর করে এবং লাঠি দিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের মেয়ে রুনা অভিযোগ করে বলেন, “আমার দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীরা আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। তারা আমার বাবাকে পিটিয়ে ও মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমি আমার বাবা হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।”
ঘটনার খবর পেয়ে কালুখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল আলামত হিসেবে একটি কাঠ বা বাঁশের লাঠি জব্দ করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাকিবুর রহমান জানান, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে এবং একটি লাঠি আলামত হিসেবে জব্দ করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে গোলাপী বেগম নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন ও অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।”