প্রধান শিক্ষিকার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন, তদন্তে মিলল অভিযোগের সত্যতা”“রামপালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান, টয়লেট ও সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ; ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দেবে শিক্ষা অফিস”
স্টাফ রিপোর্টার
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের উপকূলঘেঁষা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কদমদী বামনডহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। বিদ্যালয়ের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের জন্য টয়লেট ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘদিন ধরে সহশিক্ষা কার্যক্রম না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে এ মানববন্ধন করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিয়মিত ও যথাযথভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন না। এর ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের আরও অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয়ে থাকা টয়লেটের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিম্নমানের ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন অভিভাবকরা।
সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, শিক্ষা সফরসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের আয়োজন করা হচ্ছে না।
তাদের দাবি, শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক, শারীরিক ও সৃজনশীল বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন এসব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে বর্তমান প্রধান শিক্ষিকার অপসারণ দাবি করেন তারা।
একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে একজন পুরুষ প্রধান শিক্ষক এবং আরও একজন পুরুষ সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
অভিযোগ তদন্তে ঘটনাস্থলে শিক্ষা অফিস
মানববন্ধনের খবর পেয়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করতে রামপাল উপজেলা শিক্ষা অফিসের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যালয়ে যায়।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফারুকুল ইসলাম ও সরোজ কুমার রায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগকারীদের বক্তব্য শোনেন এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
তদন্ত শেষে শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা জানান, মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কয়েকটির প্রাথমিক সত্যতা তারা পেয়েছেন।
তবে কোন কোন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং সেগুলোর প্রকৃত চিত্র কী—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা জানান, সরেজমিনে তদন্তের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মৌলিক দায়িত্ব। এসব বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
তারা বলেন, শিশুদের শিক্ষাজীবনের সঙ্গে বিষয়গুলো সরাসরি জড়িত। তাই অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
এদিকে শিক্ষা অফিসের তদন্তের পর এখন স্থানীয় অভিভাবকদের দৃষ্টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে। তদন্তে যেসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, সেসব বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।