যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হ্যালোইন উৎসব ঘিরে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯৪ জন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডেলাওয়্যার পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নাইট ক্লাব, পোশাকের দোকান, স্টেডিয়ামের বাইরে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে এসব গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাতে হ্যালোইন উৎসব চলাকালে এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসের ডিপ এলাম এলাকায় ১ নভেম্বর ভোরে পৃথক তিনটি গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন। রোববার স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হ্যালোইন ঘিরে দেশজুড়ে সংঘটিত এসব গোলাগুলিতে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৯৪ জন। তবে এসব ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোর হ্যালোইন উৎসবের তুলনায় বেশি কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সহিংসতা বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যালোইন বছরের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দিন। এ উৎসবে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাতের বেলা বাইরে বের হন। পোশাক পরে উৎসবে অংশ নেওয়া, মদ্যপান ও মাদক গ্রহণের মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা যুক্ত হয়ে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অপরাধবিজ্ঞানী জেমস অ্যালান ফক্সের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বোস্টনের এফবিআইয়ের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বছরের সবচেয়ে সহিংস দিনগুলোর মধ্যে ৩১ অক্টোবরের অবস্থান তৃতীয়। এর আগে রয়েছে ৪ জুলাই ও ১ জানুয়ারি।ফক্স আরও বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩১ অক্টোবর বছরের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিন। এদিন তারা সন্ধ্যার পর বাইরে বের হয় এবং অপরিচিত মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করে।
যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসবের সময় সংঘটিত এসব গোলাগুলির ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিটি ঘটনার কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।