নিজস্ব প্রতিবেদক।। আশুলিয়ায় ফেসবুকের একটি পোস্টে যুবলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে লাইক-কমেন্টের জেরে প্রতিপক্ষের এক যুবলীগ সমর্থককে মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। এঘটনায় অভিযুক্ত রাজন ভূইয়া নামে এক জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিছু দিন পূর্বেও পোস্টানোর সরানোর জেরে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির সরকারের পাঁচ কর্মীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় সাবেক যুবলীগ নেতা সুমন আহমেদ ভূইয়ার বোনজামাই সহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে। এঘটনায় উজ্জল ভূইয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মামলার অন্যতম আসামি রুবেল আহমেদ ভূইয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়া জামগড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১২ নভেম্বর দুপুরে আশুলিয়ার বেরণ তেতুঁলতলা এলাকায় হারুন (২৫) নামে ওই যুবককে মারধর করে জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এরপর রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৬ নভেম্বর আশুলিয়া থানায় আট জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন হারুন। গ্রেপ্তার রাজন ভূইয়া (৩৫) আশুলিয়ার নরসিংহপুর সোনা মিয়া মার্কেট এলাকার মোঃ বারেকের ছেলে। সে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার ও ইয়ারপুর ইউপি যুবলীগের আহ্বায়ক নুরুল আমিন সরকারের সমর্থক বলে জানা গেছে।
আশুলিয়ার বেরণ এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী হারুন জানান, গত ১২ নভেম্বর দুপুরে জামগড়া তেতুঁল তলা এলাকায় পৌছলে ইয়ারপুর ইউপি যুবলীগ নেতা সোহেল সরকারের লোকজন তাকে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এসময় আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির সরকারের বিরুদ্ধে ফেসবুকের একটি পোস্টে কমেন্ট-লাইক কেন দিয়েছি তা জানতে চায় তারা। কিন্তু ওই লাইক-কমেন্ট আমার এক বন্ধুর ছিল। তারপরও রাজন ভূইয়া, সোহেল সরকার, সাগর, টগর, আরাফাত ও জুয়েলসহ ১০-১২ জন তাকে বেধরক পেটাতে থাকেন। এক পর্যায়ে লোহার পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে সজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
তবে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের সাথে তার বক্তব্যে যথেষ্ট অসংলগ্নতা পাওয়া গেছে। মুঠোফোন ও লিখিত অভিযোগ কপির মূল অংশে মারধরের ঘটনার উল্লেখ করলেও শেষের অংশে মামলার বাদী হারুন তার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ করেছেন এমনটাই উল্লেখ করেন এব্যাপারে মামলার বাদী হারুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তার কোন কণ্যা সন্তান নেই। তাহলে অভিযোগে তার মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ কেন করেছেন এব্যাপারে থতমত ভাবে ‘আমি খাবার খাচ্ছি, পরে কথা বলবো’ বলে ফোন কেটে দেন।’ এরপর অনেকবার তাকে ফোন করলে তিনি আর সাড়া দেননি।
ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক নুরুল আমিন সরকারের দাবি, ‘এর আগে তাদের পাঁচ কর্মীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনায় আশুলিয়া থানা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন আহমেদ ভূইয়ার সমর্থক যুবলীগ নেতা উজ্জ্বল ভূইয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এঘটনার জেরেই মিথ্যা মামলা সাজিয়ে এখন তাদের সমর্থকদের হয়রানি করা হচ্ছে।’তবে এসব ব্যাপারে আশুলিয়া থানা যুবলীগের বর্তমান আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন আহমেদ ভূইয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
যুবলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির সমর্থকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আলাদা দুটি মামলারই তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম সুমন জানান, কিছু দিন পূর্বেও জামগড়া এলাকায় যুবলীগের পাঁচকর্মীকে মেরে জখমের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মামলার অন্যতম আসামি রুবেল ভূইয়া পলাতক রয়েছেন। এঘটনার পর আজ আবারো জামগড়া এলাকায় ইয়ারপুর ইউপি যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন হারুন নামে এক ব্যক্তি।
তবে মামলার বাদীর লিখিত অভিযোগে উল্লেখিত মারধর ঘটনা সঠিক, কিন্তু মেয়েকে উদ্ধারের বিষয়টি ‘মিসটেক’ বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, জামগড়া এলাকায় কোন ঘটনা ঘটলেই এরা (যুবলীগের দু’পক্ষ) গ্রুপিং করে। অবৈধ টাকার গরমে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারা (যুবলীগের দু’পক্ষ) এমনটা করছে। আমরা এসব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। তবে সব গুলো বিষয় মামলার তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।