নেত্রকোনা সংবাদদাতা।। নেত্রকোনায় সিভিল সার্জনের মিথ্যা বক্তব্যের প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের দাবীতে অবস্থান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকালে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মৃত নরোত্তম সরকারের স্বজনদের উদ্যোগে এই অবস্থান কর্মূসূচী অনুষ্ঠিত হয়।
অবস্থান কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন, মৃত নরোত্তম সরকারের স্ত্রী স্বরস্বত্বী সরকার, ছেলে আরাধন সরকার, ছাত্রনেতা জাকির হোসেন খান সেলিম, নেত্রকোনা সরকারী কলেজের ছাত্র ওমর ফারুক রানা, ছাত্রনেতা মাহবুবর রহমান আসিক, শরীফ হোসাইন, আশরাফসহ অন্যরা।
এ সময় আরাধন সরকার জানান, আমার বাবা করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়নি, চিকিৎসার অভাবে আমার বাবা মারা গিয়েছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচার দাবী করছি।
অবস্থান কর্মসূচীর ১০মিনিট পরই পুলিশ সদসস্যরা তাদেরকে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেন।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো অনিয়ম থাকলে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় বিচার চাইতে পারেন। করোনা সংক্রমণের এই সময়ে গণজমায়েত কোনো ভাবেই কাম্য নয়।
উল্লেখ্য, নরোত্তম সরকারের (৫৫) বাড়ি মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে। কিছুদিন যাবৎ মোহনগঞ্জ পৌরশহরের রাউতপাড়ায় তার ভাগ্নের বাসায় অবস্থান করছিলেন। শনিবার (১১এপ্রিল) নরোত্তম সরকার অসুস্থতা অনুভব করলে ভাগ্নে বৌ মিতু রানী তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। করোনার ভাইরাসের অজুহাত দেখিয়ে কর্মরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ রেফার্ড করে। পরে চিকিৎসার অভাবে হাসপাতাল চত্বরেই নরোত্তম সরকারের মৃত্যুবরণ করতে হয়। পরবর্তীতে নরোত্তম সরকারের নমুনা পরীক্ষা করেও কভিড-১৯ পাওয়া যায়নি। আর এ্ই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে “করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু, লাশ ফেলে পালালেন স্বজনরা” শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।