সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা।। সারা বিশ্বে বর্তমান এক আতঙ্ক মহামারী করোনাভাইরাস। ওই করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব ও সংকট সময়ে লকডাউনের কারণে বাংলাদেশ সরকার কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় দিনমজুর,অসচ্ছল ও হতদরিদ্র পরিবারকে ত্রান সহায়তার দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। আর ওই ত্রাণ সহায়তার নামে তালিকা স্বচ্ছ ভাবে কারার জন্য এলাকার চেয়ারম্যান ও মেম্বারাগনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু প্রবাদ আছে চোর শোনেনা ধর্মের কাহিনি। যেই কথা সেই কাজ! ওইসব ত্রান সহায়তার নামের তালিকা নিয়ে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের ৮ নং ওয়াড সদস্য আব্দুল হক মেম্বারের অনিয়ম দুর্নীতি আর লঙ্কা কান্ড।
কর্মহীন অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের পরিবর্তে নামের তালিকা নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আব্দুল হক নিজেই ত্রাণ গ্রহীতা হয়েছেন। শুধু তাই নয়! একের পর এক অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করছে। ইউপি সদস্য আব্দুল হক নিজের নামেই নয়, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তার মা,শাশুড়ী,শ্যালক,মেয়ের জামাইয়ের নামসহ তারই আত্নীয় স্বজনের প্রায় ১৫ টি নাম এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। ওই ইউপি সদস্যের এহেন কর্মকান্ডে বাদাঘাট ইউনিয়ন সহ পুরো উপজেলা জুড়েই বইছে আলোচনা আর সমালোচনার ঝড়। এমনকি ওই অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাহিরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আলম সাব্বিরকে অশুভ আচরণ করাসহ দেখে নেয়ার হুমকি ।
এই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড জাঙ্গাল হাটি,লামাশ্রম, রাজারগাও,ডালার পাড়,লাউড়েরগড় গ্রাম সমুহ নিয়ে গঠিত। আর ওয়ার্ড মেম্বার আঃ হক তার পিতার নাম সাদত আলী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কায্যালয়ের তালিকা সূত্রে জানাযায়,সরকারি ত্রান সহায়তা জন্য আব্দুল হকের দস্তখতও শিলমোহর কৃত নামের তালিকায় ৪৮টি নাম রয়েছে এর মধ্যে মহিলা মেম্বার মনোয়ারা বেগমের জন্য বরাদ্দ ১০টি নাম। অবশিষ্ট ২৮টি নামের মধ্যে ১০জন তার নিজ পরিবারের।
একই পরিবারের ৩জনের নাম ক্রমিক (২৯) তার শ্বাশুড়ি, ক্রমিক নং ৩০ শ্যালিকা,ক্রমিক নং ২৪ শ্যালক ও ৩৭ নম্বর ক্রমিকে ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মেম্বারের আরেক শ্যালকের স্ত্রী নাম ও ক্রমিক নং ১৬ মেম্বারের মেয়ের জামাই ৯নং ওয়ার্ড বাসিন্দা। ক্রমিক নং ৩১ আপন মামা শ্বশুর। এছাড়া কিছু নামের সাথে পিতা কিংবা স্বামীর নামের কোন মিল নেই।

কর্মহীন অসহায় ও হতদরিদ্র লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সরকারের দেয়া নির্দেশ আমার মেনে কর্মহীন হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে আছি। সরকার কইছে আমাগো খাদ্য দিবো, মেম্বারে নাম নিবো। কই মেম্বার ত কিছুই করল না। হিনেছি( শোনেছি) এহন সরকারের নামের তালিকায় আমাগো বাদ দিয়া তালিকায় মেম্বারে নিজের নাম নিজেই দিছে। খালি মেম্ভারের নামেই না, তার মা, শাশুড়ী, জি( মেয়ে), শালা, শালী( শ্যালিকা)সহ সবই তার আত্নীয় স্বজনের নাম। তারা আরও বলেন, আব্দুল হক মেম্বার আমাগো সাথে ধোঁকাবাজি করছে। যাতে সরকারি মাল আত্মসাৎ করতে পারে। আমরা এর কঠিন বিচার চাই। এর পূর্বেও ভিজিএফ,ঘরসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্নসাৎ করেছে বলেনও অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিক আলম সাব্বির বলেন, লাউড়েরগড় বাজারে শুক্রবার সন্ধায় একটি ফার্মেসীতে ঔষধ কিন্তে গিয়ে আঃহক মেম্বারকে পেয়ে বলি নিজের নাম বাদ দিয়ে অসহায় লোকজনের চিন্তা করা উচিত। বর্তমান সময়ে সবাই বিপদে এক ঘরে ৩জনের নাম না দিয়ে দেখে শুনে দিলে কি হয়। এই কথা বলার পর মেম্বার আব্দুল হক অসদাচরন করেন। তখন উপস্থিত জনতা মেম্বারের অসদাচরনের প্রতিবাদ জানায়।
এবিষয়টি তাৎক্ষণিক ভাবে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে উক্ত মেম্বারের সম্মুখেই তার কর্মকান্ড সম্পর্কে অবহিত করি। তিনি অবাক হলেন এবং বিষয়টি ভালো ভাবে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন। পরক্ষনেই আমাকে বাড়ি যাওয়ার পথে দেখে নেবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এবিষয়ে ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার আঃ হক বলেন,আমি আমার নিজের ও মা’র নাম দিয়ে ভুল করেছি। ইউএনও স্যার বলেছেন নাম কেটে দিতে আমি কেটে দিয়েছি। আর বাকীদের যাচাই করেন তারা পাওয়ার যোগ্য কি না। সাংবাদিক কে হুমকির বিষয়ে বলেন,আমি কাউকে হুমকি দেই নি। ভুল বোঝা বুঝি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যনার্জি বলেন,এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।