বাগেরহাট সংবাদদাতা।। দেশে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক, মে মাসকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবু জনসমাগম আর সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার বালাই নেই ফকিরহাটে মানুষ বিক্রি হাটে। ফলে তারা নিজেরা যেমন ঝুঁকির মধ্যে, অন্যদিকে দুর দুরান্ত থেকে আসা এসব মানুষ ফকিরহাটবাসীর জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
একবিংশ শতাব্দীর তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও ক্ষুধা আর দারিদ্র্যের নির্মম আঘাতে নিন্ম আয়ের মানুষগুলো দুই বেলা রুটিরুজির জন্য নিজেকে বেঁচে দেন এ মানুষ বিক্রির হাটে!
বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট বাজারে সপ্তাহে দু’দিন বসে ‘মানুষ বিক্রির হাট’। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এটি সাময়িকভাবে উপজেলা প্রাচীন কাজি আজহার আলি কলেজ মাঠে স্থানন্তরিত করা হয়। ৪/৫ জেলা পেরিয়ে দূর দূরান্তের শত শত মানুষ এখানে আসে নিজেকে পণ্যের মত বিক্রি করতে। মূলত মানুষের শ্রম বা ‘কামলা’ বিক্রি হয় এই বাজারে।
মানুষের এই হাটে বেচাকেনা চলে ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত। দামদর ঠিক হয়ে গেলে শ্রমজীবী মানুষগুলো রওনা হন মালিকের গন্তব্যে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা আব্দি ঘাম ঝরিয়ে কাজ করেন কঠোর পরিশ্রমী মানুষগুলো। একদিন, দুদিন আবার সপ্তাহের জন্যেও তাদের ক্রয় করা হয়।
বিক্রি হতে আসা অপেক্ষারত শ্রমিক আশ্রাফ আলীর জানান, তিনি ঝিনাইদহ থেকে এসেছেন এখানে শ্রম বিক্রি করতে। তার সাথে আরও কয়েকজন এখানে এসেছেন। চাপাইনবয়াবগঞ্জ থেকে আসা যুবক বরকত উল্লাহ বলেন, বিক্রি হলে দিন ৬ শ’ থেকে ৭শ’ টাকা পাই। ধান কাঁটার মৌসুমে কাজের সন্ধান এখানে এসেছি।

করোনা সংক্রমণে সামাজিক দুরত্ব সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ইচ্ছা থাকলেও তাদের মাস্ক ব্যবহার ও নিয়মিত হাত ধোয়ার মত সুযোগ নেই। যাতায়াত ও কাজের সময়ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার সুযোগ থাকে না।
উপস্থিত শ্রমিকদের অভিযোগ, চৌকিদার লাঠি নিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দিচ্ছে। ফসল ঘরে তুলতে শ্রমিকদের সুযোগ প্রদানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকা সত্বেও তাদের কেন হয়রানি করা হলো -এ প্রশ্ন তোলেন তারা।
ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ মোঃ খায়রুল আনাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদেরবাংলাদেশ ডট কমকে বলেন, কাজি আজহার আলি কলেজ মাঠে শতশত শ্রমিক জড়ো হয়েছে শুনে আমি পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছি সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে। তবে চৌকিদার লাঠি নিয়ে শ্রমিকদের তাড়ানোর বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন।