বাগেরহাট সংবাদদাতা।। বর্তমানে চলছে ভয়াবহ করোনা ভাইরাস দুর্যোগ। সাথে চলছে এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের আক্রমন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটে স্ট্রিট বেগার, মস্তিষ্ক বিকৃতি উম্মাদ ও ভবঘুরে শ্রেণির মানুষরা ভয়ংকর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ ঝুঁকি শুধুমাত্র তাদের জন্যই নয়, এ এলাকায় বসবাসকারী যে কেউ তাদের দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। যেহেতু তাদের নির্দিষ্ট কোন ঘর ঠিকানা নেই এবং যখন যেখানে খুশি যেতে পারে তাই সংক্রমণ ছড়ানো ঝুঁকিও তাদের তুলনামূলক বেশি। ফলে তাদের মানবিক সহায়তার মাধ্যমে নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার দাবী সচেতন মহলের।
রাজধানী ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক, খুলনা-বরিশাল মহাসড়ক ও বন্দর নগরী মোংলার সাথে সংযোগকারী সড়ক এ উপজেলার মধ্যে দিয়ে যাওয়ায় সহজেই এখানে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাগল ও ভবঘুরে মানুষ এসে উপস্থিত হয়। এছাড়া কাটাখালী ও টাউন নোয়াপাড়ায় বৃহৎ দু’টি সংযোগ চত্বর (মোড়) থাকায় বিভিন্ন দূরপাল্লার ও স্বল্পপাল্লার যানবাহন এখানে অবস্থান ও যাত্রাবিরতি করে। ফলে বহু স্ট্রীট বেগার বা ভবঘুরে ভিক্ষুকের আনাগোনা এ স্থানে পরিলক্ষিত হয়। কোভিড-১৯ ও ডেঙ্গু প্রকোপে এ শ্রেণির মানুষের কোন নিরাপত্তা উপকরণ নেই, নেই সচেতনতাও। ফলে সহজেই তারা ভাইরাসের বাহক হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে যানবাহনের চাপ কম থাকলেও দিন দিন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে পরিস্থিতি।
জাতীয় সংসদে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের দেওয়া তথ্য মতে, সরকার ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্রতিবন্ধীদের জন্য মাথাপিছু মাসিক ৭৫০ টাকা করে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার জনকে ১ হাজার ৩৯০ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্ট্রীট বেগার ও পাগলদের স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে অত্র উপজেলায় তেমন কোন কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। নেই সঠিক পরিসংখ্যানও।
শিক্ষক ও সমাজকর্মী খান আল মুস্তাসীম বিল্লাহ সজল বলেন, আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু সহায়তা করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তাছাড়া এদের পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রয়োজন আবাসন ব্যবস্থা।
এমতাবস্থায় অন্যসব সাধারণ দরিদ্রের পাশাপাশি উম্মাদ ও ভবঘুরে ভিক্ষুকদের মানবিক সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।