হারুনার রশীদ বুলবুল যশোর প্রতিনিধি।। প্রতিদিন সকাল হলেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে পাঠ্যবই হাতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর ঝুলে থাকে এক অজানা শঙ্কা। ১৯৯৯ সালে নির্মিত, প্রায় তিন দশকের পুরোনো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই প্রতিদিন চলছে পাঠদান। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। বর্তমানে এখানে ১০৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। ১৯৯৯ সালে নির্মিত তিন কক্ষবিশিষ্ট একাডেমিক ভবনটিই এখন বিদ্যালয়ের একমাত্র ভরসা। তবে দীর্ঘ ২৭ বছরের ব্যবহারে ভবনের অবকাঠামো অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল।
তিনটি কক্ষের মধ্যে একটি ব্যবহৃত হচ্ছে অফিস কক্ষ হিসেবে। বাকি দুটি কক্ষ দিয়ে ১০৭ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়ে মাঝখানের সিঁড়িঘরটিকেও শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। সরকারি ক্ষুদ্র মেরামত খাতের অর্থ দিয়ে পরবর্তীতে একটি ছোট টিনশেড নির্মাণ করা হলেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। সীমিত জায়গায় একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষকরা প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছেন, যা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর পর থেকে ছুটি না হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। যেকোনো সময় ছাদ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন:”বর্তমান ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আমরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। দ্রুত নতুন ভবনের অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।”বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের (এসএমসি) সভাপতি মো. আব্দুর জলিল বলেন, “এই বিদ্যালয়টি এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষার একমাত্র ভরসা। অথচ তারা প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। আমরা অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যালোচনা করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের মতে,শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগে প্রশাসন দ্রুত এই বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন বরাদ্দ দেবে-এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর।
এবিডি.কম/রাজু