মিঠাপুকুরে বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনা: তদন্তে গিয়ে ফিরে এলেন শিক্ষা কর্মকর্তা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা
রংপুর ব্যুরো:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের জারুল্যাপুর ১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে তদন্ত না করেই ফিরে গেছেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ২৪ জুন মনোনয়নপত্র বিক্রির শেষ তারিখ ছিল। তবে ওই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আবেদনপত্র ক্রয়-বিক্রয় হয়নি। পরবর্তীতে বিধি অনুযায়ী নতুন তফসিল ঘোষণা না করেই গোপনে তৌহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, আয়শা সিদ্দীকা ও সুমি খাতুনকে অভিভাবক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীকালে, প্রধান শিক্ষক আশেকুর রহমানের সাথে মতবিরোধের জেরে বিধি বহির্ভূতভাবে আয়শা সিদ্দীকার সদস্যপদ বাতিল করে মার্জিয়া ইয়াছমিনকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠে। এই অনিয়মের বিষয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য সামচুজ্জোহা মিঞা।
উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করতে জারুল্যাপুর ১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। সেখানে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে অবৈধ কমিটির সমর্থকদের মধ্যে তীব্র তর্কবিতর্ক শুরু হয় এবং চরম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তদন্ত সম্পন্ন না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে মিঠাপুকুর সদরে ফিরে যান ওই কর্মকর্তা।
এদিকে প্রধান শিক্ষক আশেকুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যেরও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আইয়ুব আলী। তাঁর দাবি, নিজের ছেলেকে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছেন প্রধান শিক্ষক। তবে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আশেকুর রহমান।
বিদ্যালয়ের সাধারণ অভিভাবক ও এলাকাবাসী বর্তমানে এই বিধি-বহির্ভূত ও পকেট কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন।