জনবলসংকটে কুমারখালীতে রাতে বিদ্যুৎসেবা অচল
নাঈম বিশ্বাস (কুষ্টিয়া):
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় রাতের বেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লাইনের ত্রুটি দেখা দিলে দীর্ঘ সময় পোহাতে হচ্ছে মারাত্মক দুর্ভোগ। সন্ধ্যার পর কোনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা দেখা দিলে তা সারানোর মতো পর্যাপ্ত কর্মী নেই বিদ্যুৎ কার্যালয়ে। ফলে সেবা পেতে গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হয় পরবর্তী সকাল পর্যন্ত। পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে রাতে হটলাইন বা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় অধিবাসীরা।ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) স্থানীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় ওজোপাডিকোর গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার জন্য নিয়োজিত আছেন মাত্র দুজন লাইনম্যান। তবে তাদের মধ্যে একজন শারীরিক অসুস্থতায় থাকায় নৈশকালীন জরুরি মেরামতের কাজ একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েছে। রাত ১০টার পর সমস্যা বাড়লে তা মোকাবিলার কোনো ব্যবস্থা থাকছে না।দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মারাত্মক ভেগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে তীব্র গরমে শিশু ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র শিল্প, কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। এছাড়া ঘন ঘন ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মূল্যবান বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ওজোপাডিকোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বিগত এক দেড় দশকে নতুন কোনো জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তিন শিফটে বিদ্যুৎব্যবস্থা সচল রাখতে যেখানে অন্তত ছয়জন লাইনম্যানের প্রয়োজন, সেখানে রয়েছেন মাত্র দুজন। এমনকি গ্রাহকদের কল গ্রহণ করার জন্যও পৃথক কোনো কর্মী নেই। তবে চুক্তিভিত্তিক (আউটসোর্সিং) নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা দ্রুত সম্পন্ন হলে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নৈশকালীন এই সংকটের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।