ফুলপুরে ইমামের ওপর হামলা মামলার আসামি গ্রেপ্তার, পাঁচ দফা দাবি তৌহিদি জনতা ও আলেম সমাজের
ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ফুলপুরে মসজিদের ইমাম হাফেজ আল আমিনের ওপর হামলার অভিযোগে করা মামলার আসামি কাউসারকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে তিনটার দিকে পার্শ্ববর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়েছে।
কাউসার গ্রেপ্তার হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তৌহিদি জনতা ও আলেম সমাজ। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা সহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি বাজার জামে মসজিদের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এর আগে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভাইটকান্দি সখল্যার মোড়ে ইমামের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ফুলপুরের ভাইটকান্দি পূর্বপাড়া এলাকার জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আল আমিনের ওপর হামলার ঘটনায় কাউসারকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তৌহিদি জনতা ও আলেম সমাজ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। তাঁদের মূল দাবি ছিল, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
বক্তারা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রশাসন আমাদের নিশ্চিত করেছে যে ১ অক্টোবর রাত সাড়ে তিনটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্ত কাউসারকে পার্শ্ববর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। এ জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে আমরা প্রত্যাশা করি, মামলার তদন্ত কার্যক্রম নিরপেক্ষ ও যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে।’
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় ঘোষিত পরবর্তী কর্মসূচিগুলো আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে শুধু গ্রেপ্তারেই তাঁদের দাবি শেষ নয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
২. তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না।
৩. অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. বিচারিক কার্যক্রম যেন অযথা দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গাফিলতি, পক্ষপাতিত্ব, অযথা বিলম্ব কিংবা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা তাঁরা প্রত্যাশা করেন না। তাঁরা চান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আপাতত নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, বিচারপ্রক্রিয়া অযথা বিলম্বিত হচ্ছে অথবা আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন পরিস্থিতি দেখা গেলে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি পুনরায় তুলে ধরার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরিশেষে বক্তারা সবাইকে শান্ত থাকার, আইন নিজের হাতে না নেওয়ার এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই তাঁদের প্রত্যাশা