লালমনিরহাট সংবাদদাতা।। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার খারুভাজ গ্রামের সিদ্দিক হোসেন বাড়ি থেকে বাজার করতে গিয়ে প্রায় ১০ বছর আগে নিখোঁজ হন। অবশেষে ১০ বছর পর সিদ্দিক হোসেনকে ফিরে পেলেন স্ত্রী রশিদা বেগম।
নিখোঁজের পর নিকট আত্মীয় স্বজনসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন এক রকম আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন।
সম্প্রতি সিদ্দিক মিয়া রংপুরের হারাগাছ মেট্রো থানার বাহার কাছনা এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় রাস্তার ধারে বসে থাকতে দেখেন একই এলাকার বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম। এসময় তিনি তার নাম ও বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কিছুই বলতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত জাহিদুল বৃদ্ধকে বাড়িতে নিয়ে চিকিৎসা করান। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির পরামর্শে হারাগাছ থানায় জিডি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিদ্দিক হোসেনের ছবি পোস্ট করেন।
এরই মধ্য ফেসবুকে ছবি দেখে এবং পুলিশ বিভিন্ন থানায় বার্তা প্রেরণের কারণে তাকে চিনতে পারেন স্ত্রী রশিদা বেগম ও কন্যা শিরিনা বেগম।
পরে তারা থানায় যোগাযোগ করলে হারাগাছ মেট্রোপুলিশ প্রেস ব্রিফিং করে সবার উপস্থিতে বৃদ্ধ সিদ্দিক হোসেনকে গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) বিকালে রশিদা বেগমের কাছে তুলে দেন।
এদিকে হারিয়ে যাওয়া স্বামীকে খুঁজে পাওয়ায় থানা এলাকায় এক অন্যরকম দৃশ্যের অবতারণা হয়। কিছু সময় দুজন দুজনার দিকে হতবাক হয়ে চেয়ে থাকেন।
রশিদা বেগম জানান, ১০ বছর আগে তার স্বামী খারুভাজ গ্রামের বাড়ি থেকে বাজার করতে যান। পরে তিনি আর বাড়ি ফিরে যাননি। তখন থেকেই তিনি নিখোঁজ হন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি ক্রাইম) কাজী মোস্তাকি ইবনু মিনান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহিগঞ্জ জোন ফারুক আহমেদ, হারাগাছ থানার ওসি রেজাউল করীমসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।