শেরপুর সংবাদদাতা।। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবেলায় অবশেষে শেরপুর জেলাকেও লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ এপ্রিল বুধবার রাতে ওই ঘোষনা দেন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আনার কলি মাহবুব। বুধবার রাত ১০টা থেকে ওই ঘোষনা কার্যকর করা হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। অন্যদিকে ওই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও ওই ঘোষনায় বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্তে বুধবার রাত সাড়ে ৯ টায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনার কলি মাহবুব স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবেলায় ও প্রতিরোধকল্পে ‘করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি শেরপুর’ এর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘সংক্রমণ রোগ, (প্রতিরোগ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৬১ নং আইন) এর ১১(১) (২) (৩) ধারা মোতাবেক জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে শেরপুর জেলাকে অবরুদ্ধ (লকডাউন) ষোঘনা করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয়/আঞ্চলিক সড়ক/মহাসড়ক ও নৌপথে অন্য কোন জেলা হতে কেউ শেরপুর জেলায় প্রবেশ করতে কিংবা এ জেলা হতে অন্য কোন জেলায় গমন করতে পারবেন না। জেলার অভ্যন্তরে আন্তঃউপজেলার ক্ষেত্রেও এরূপ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
এ ছাড়া সকল ধরনের গনপরিবহন, জনসমাগম বন্ধ থাকবে। তবে জরুরী পরিসেবা, চিকিৎসা সেবা, কৃষিপণ্য ও কৃষি কাজে নিয়োজিত সেবা, খাদ্য দ্রব্য সরবরাহ ও সংগ্রহ ইত্যাদি এর আওতা বহির্ভুত থাকবে। জনস্বার্থে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে ইতোপূর্বে জারিকৃত সকল আদেশ বলবৎ থাকবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অধ্য ১৫/০৪/২০২০ ইং তারিখ বুধবার রাত ১০.০০ ঘটিকা হতে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এ আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণসহ সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় শেরপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষনা করায় জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জেলা নাগরিক সমাজের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মুহাম্মদ আখতারুজ্জমান, সদস্য সচিব মিনহাজ উদ্দিন মিনাল, জনউদ্যোগের আহবায়ক আবুল কামাল আজাদ ও সদস্য সচিব হাকিম বাবুলসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। সেইসাথে তারা লকডাউন কার্যকরে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
উল্ল্যেখ, বুধবার পর্যন্ত জেলায় ১০ দিনের ব্যবধানে ৯ জনের করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হলে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে জেলাকে লকডাউনের আওতায় নেওয়ার জোড়ালো দাবি উঠে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের মতামত প্রকাশ করলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দৃষিগোচর হয়।