বাগেরহাট জেলা সংবাদদাতা: বাগেরহাটের ফকিরহাটে নারী ইউপি সদস্যের মা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দুই নাম ব্যবহার করে সরকারি ভাতা উত্তোলন করে আসছেন!সোমবার (১৫ জুন) দোলেছা ও দেলেছা নামের বই দুটি জব্দ করেছে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. সবুর আলী।অনিয়মের বিষয়টি নজরে আসায় তিনি এ পদক্ষেপ নেন।ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য তাছলিমা বেগম লতার মা দোলেছা বেগম এ ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন।
উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে বাড়ইডাঙ্গা গ্রামের মৃত ওহাব মোড়লের স্ত্রী দোলেছা বেগমের নামে একটি বিধবা ভাতা চালু হয়। ২০০৩ সালে দোলেছা বেগম নিজের ও স্বামীর নাম পরিবর্তণ করে আবারও বিধবা ভাতার আবেদন করেন। সেখানে তিনি নিজের নাম দেলেছা বেগম ও স্বামী মৃত আ. ওহাব হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এ দোলেছা বেগমের মেয়ে তাছলিমা বেগম লতা ওই এলাকার সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য হওয়ায় যাচাই-বাছাই ছাড়াই সমাজ সেবা অফিসে পাঠানো হয়। একই ব্যক্তির নামে দুটি বই দিয়ে ভাতা চালু হয়ে যায়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত দুই নামেই ভাতা উত্তোলন করে আসছেন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য তাছলিমা বেগম লতার মা মোসা, দোলেছা বেগম।
এ ব্যাপারে দোলেছা বেগমের মেয়ে লখপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য তাছলিমা বেগম লতা দাবি করেন তিনি বিষয়টি সম্পর্কে আগে জানতেন না লখপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন বলেন, আমি ২০১১ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। এর আগে যেসব ঘটনা ঘটেছে সেটা আমার দেখার সুযোগ ছিল না। যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সেটা যদি সত্য হয়, তা দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেন তিনি।
ফকিরহাট উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. সবুর আলী বলেন, দুটি বই থেকে একই ব্যক্তির নামে ভাতা উত্তোলনের বিষয়টি এলাকাবাসীর খবরের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি। দেলেছা ও দোলেছা বেগমের বই দুটি জব্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে একটি অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। সরেজমিন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।