নিজস্ব প্রতিবেদ।। জনগণের পাশে থেকে পুলিশের সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়ে আধুনিক সুবিধা তথা তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ পুলিশ অঙ্গীকারাবদ্ধ সেই সঙ্গে উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা কে অব্যাহত রাখতে এবং টেকসই করতে হলে থানার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একযোগে এগিয়ে যেতে হবে।
এছাড়া আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে পুলিশের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে বিট পুলিশিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে রংপুরে এসপি বিপ্লব কুমার সরকার বিপিএম বার পিপিএম পুলিশ সুপার রংপুর।
১৪ ফেব্রুয়ারী (রবিবার) মিঠাপুকুর থানার আয়োজনে প্রতি মাসের ন্যায় মাসিক অপরাধ ও আইন শৃংখলা পর্যালোচনা সভা বেলা ১১ টার সময় শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর আধুনিক যুগের মানুষ সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের মানব প্রেম, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর আইকন, রংপুর জেলা পুলিশের অভিভাবক,এসপি বিপ্লব কুমার সরকার বিপিএম বার পিপিএম।
এ সময় প্রধান অতিথি বলেন, পুলিশকে কীভাবে জনমুখী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা যায়, প্রতিটি থানা এলাকার দূরবর্তী অঞ্চলে কীভাবে পুলিশের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়, পুলিশের কার্যক্রমে কীভাবে আরও গতি আনা যায়, এবং সর্বোপরি বিদ্যমান জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পুলিশকে কীভাবে অধিকতর গতিশীল ও জনসেবমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায়-তারই একটি সমন্বিত প্রায়াস হলো বিট পুলিশিং কার্যক্রম। বিট পুলিশিং এর লক্ষ্য হলো পুলিশের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। পুলিশের সেবাকে সরাসরি থানা থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃতকরণের মাধ্যমে ইউনিয়ন/ওয়ার্ড পর্যায়ে নিবিড় পুলিশিং করা যাবে সে দিকে বরা বরাবরই দৃষ্টি রাখা।
বিট অফিসারদের সম্পাদিত কাজের গুণগত ও সংখ্যাগত মানের উপর মূল্যায়নের জন্য সহকারী পুলিশ সুপার ডি- সার্কেলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নির্দেশ দেন। কোন বিট অফিসারদের দায়িত্বে অবহেলা বা অন্যকোন বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে তাকে সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনের ক্ষেত্রে দূরবর্তী বিট এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মিঠাপুকুর থানায় মাসিক অপরাধ ও আইন শৃংখলা পর্যালোচনা সভায় আরো বলেন, পুলিশ জনগণের সেবা প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান, জাতি ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক/সামাজিক/অর্থনৈতিক শ্রেণী নির্বিশেষে থানায় সকল নাগরিকের সমান আইনগত অধিকার লাভের সুযোগ রয়েছে। থানায় কিশোর হাজতখানায় ব্যবস্থা, মহিলা আসামী/ভিকটিমকে যথাসম্ভব মহিলা পুলিশের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থানায় ওয়ানস্টপ ডেলিভারী সার্ভিস চালুসহ সব সময় জনগণকে সেবা দিতে হবে। এতে বিন্দু পরিমাণ কার্পণ্য করা যাবে না। থানার আশপাশে কোনো দালাল থাকবে না। থানা হবে দালালমুক্ত, তাই জনগণ কোনোভাবেই যেন জনগণ হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো পুলিশ যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান ।
মিঠাপুকুর থানা এবং বৈরাতীহাট তদন্তকেন্দ্রের, সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে কাজ করারও আহ্বান জানান প্রধান অতিথি। সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মাদক উদ্ধার, জুয়া- চোরাচালান, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং প্রতিরোধ, আসামী গ্রেপ্তার, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলসহ থানায় আগত সেবা ভোগীদের সেবা প্রদান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বো করেন মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ, আমিরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কামরুজ্জামান পিপিএম-সেবা,সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, (ডি-সার্কেল) রংপুরসহ মিঠাপুকুর থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত/অপারেশন এবং বৈরাতীহাট তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জসহ প্রমুখ।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/রাজু