স্টাফ রিপোর্টার সাভার।। আশুলিয়া ইয়ারপুর ইউয়িনের জিরাবো এলাকার বাবু পাপ্পু নিট ওয়্যারের একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকান্ডে পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, এ ব্যাপারে ওই কারখানার মালিকের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী ও পুলিশ।
সোমবার (১০ জানুয়ারি ) বেলা ১১টার দিকে ইয়ারপুর ইউয়িনের তৈয়বপুর মৌজার জিরাবো মাষ্টার বাড়ী এলাকায় বাবু পাপ্পু নিট ওয়্যার কারখানায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
এ অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। এসময় আগুন নিভাতে গিয়ে উক্ত কারখানার এমডি বাবু তালুকদার নিজেই আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানায়,বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ করে কালো ধোঁয়া দেখেন এবং ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। এসময় দেখা যায়,একটি কারখানায় আগুন লেগেছে। এসময় আগুন দেখে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরকে খবর দেওয়া হয়। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট এসে কারখানার মালিকের সহযোগিতায় দ্রুত সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। ওই কারখানায় গেঞ্জি তৈরি হতো বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা দিনায়াতুল হক দিনা গণমাধ্যমকে বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কারখানার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দ্রæত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে। অগ্নিকান্ডের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ওই কারখানার অগ্নিকান্ডের সময় শ্রমিক কর্মকর্তারা কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলে তারা জানায়, শুধু কারখানার মালিক বাবু তালুকদার সেখানে উপস্থিত ছিলেন,( ব্যাংকের হিসাব আছে )বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন অনেকেই।
উক্ত বিষায় নিয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্যামল গণমধ্যমকে বলেন,অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসেছি, এসে দেখা যাচ্ছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ বা মামলা হবে কি না তা জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে জিডি করা হবে। তিনি বলেন, কারখানার মালিকের অব্যবস্থাপনা ও উক্ত বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত চলমান বলে তিনি জানান।
ঢাকা শিল্প পুলিশ-১ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদিক বলেন,বাবু পাপ্পু নিট ওয়্যার শাখা কারখানাটিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে,কিন্তু ঘটনার সময় কারখানার মালিক বাবু তালুকদার ছাড়া আর কোনো শ্রমিক কর্মচারি বা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থলের পাশে অনেক বাসা বাড়ি রয়েছে, একটি বাড়িতে গ্যাসের সিলিন্ডার রয়েছে ৭০টি। আগুন ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারতো। বাড়ির মালিক ও কারখানার অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল।
আশুলিয়ায় এরকম অব্যবস্থাপনায় অনেক শিল্পকারখানা রয়েছে। বাবু পাপ্পু নিট ওয়্যার লিঃ কারখানার মালিক বাবু তালুকদারের কাছে অগ্নিকান্ডের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া কারখানার ম্যানেজার আব্দুল হান্নান এর কাছে এই অগ্নিকান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছুই বলতে পারবো না।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/শিরিন আলম