নিজস্ব প্রতিবেদক।। সাভারের আশুলিয়া থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় আন্-নূর চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টার এর পিছনে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘ দিন ধরে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা ও মাদক কেনাবেচা। বিশেষ করে ‘মুন গেস্ট হাউস’ নামক প্রতিষ্ঠানে দিনে-দুপুরে গ্রিলে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে চালানো হচ্ছে এসব অসামাজিক কার্যকলাপ। স্থানীয়দের অভিযোগ,এসবের নেপথ্যে থাকা মূলহোতা নুর ইসলাম রহস্যজনকভাবে প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়,পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার এই গেস্ট হাউসটিতে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ রাখা হয় যাতে সাধারণ মানুষের মনে হয় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ। কিন্তু ভেতরে চলে ভিন্ন চিত্র। নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খদ্দের সংগ্রহ করে ভেতরে চলে দেহ ব্যবসা। শুধু তাই নয়,অভিযোগ রয়েছে যে এই আস্তানাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মাদকের ব্যবসাও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
সম্প্রতি কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি মালিকপক্ষের ভাড়াটে লোকবল দ্বারা তাদের লাঞ্ছিত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমে ইতিপূর্বে খবর প্রকাশিত হলেও অদৃশ্য কারণে হোটেলটির কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না।
পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দারা এই কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া আবাসিক এলাকার পাশে এমন কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ কলুষিত হচ্ছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর ও তরুণরা এসবে আকৃষ্ট হয়ে বিপথে যাচ্ছে। হোটেলের আড়ালে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের কেনাবেচা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি,প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘ দিন ধরে এই ‘পাপের আস্তানা’ চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান আসছে না। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান হলেও কয়েকদিন পরই আবার শুরু হয় একই চিত্র। তারা অতিদ্রুত নুর ইসলামসহ এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।