নিজস্ব প্রতিবেদক: পণ্য কিনলেই মিলবে কুপন৷ সেই কুপন ঘষা দিলেই থাকবে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কক্সবাজার ভ্রমণের আকর্ষণীয় সুযোগ৷ এমনই চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মাসের পর মাস ক্রেতাসাধারণের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে অবস্থিত ‘সুন্নাহ স্কয়ার’ নামের একটা অনলাইন শপের বিরুদ্ধে৷ ভোক্তাদের আকর্ষণ বিভিন্ন প্রলোভন দেখালেও মূলত একেকটি ক্যাম্পেইনের প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও কাউকেই কক্সবাজারেও পাঠায়নি তারা৷ অনুসন্ধান বলছে, গত বছরের নভেম্বরে জ্যাকেট কিনলেই কুপন ঘষে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ দেয়ার কথা জানিয়ে ক্যাম্পেইন করে প্রতিষ্ঠানটি৷ জানানো হয়, প্রতি সপ্তাহে পাঁচজন করে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে৷ প্রায় তিন মাসব্যাপী ওই অফারের প্রচারও চালায় তারা৷ কিন্তু প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও কোনোপ্রকার র্যাফেল ড্র আয়োজন করতে দেখা যায়নি প্রতিষ্ঠানটিকে৷
বরং এ বিষয়ে ক্রেতারা প্রশ্ন করলে তাদের সাথে বাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে৷ ক্রেতাদের অভিযোগ, র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত না হওয়ার পেছনে বিভিন্ন মিথ্যা অজুহাতও দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি৷ আমেরিকা-ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের ফ্লাইট বন্ধ না থাকলেও তাদের দাবি, ফ্লাইট বন্ধ থাকায় তারা ড্র পরিচালনা ও বিজয়ীদের সেসব স্থানে পাঠাতে পারেনি৷ এ বিষয়ে তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও আশানুরূপ উত্তর না পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন এক শিক্ষার্থী৷ ইতোমধ্যে তিনি সকল প্রমাণসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক শাখায় অভিযোগ জানিয়েছেন৷ অভিযোগটি আমলে নিয়ে শুনানি দিন ধার্য্য করেছে ভোক্তা অধিকার৷ ওই শিক্ষার্থী বলেন, এরা মূলত কুপনের নামে মারাত্মক প্রতারণা করে যাচ্ছে৷ চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের কুপনের প্রলোভন দেখিয়ে নিম্নমানের পণ্য গছিয়ে দেয় এরা৷
আমি গত শীতে কুপন অফার দেখে একটি জ্যাকেট কিনেছিলাম৷ তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ করলে তারা একেক সময় একেক অজুহাত দিয়েই গেছে৷ এরা যেসব অফারের ঘোষণা দেয়, এর পুরোটাই প্রতারণা৷ প্রতিষ্ঠানটির সকলেই এর সাথে জড়িত৷ এই ধরনের প্রতারণামূলক ব্যবসা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত৷ এ বিষয়ে জানতে সুন্নাহ স্কয়ারের হটলাইন নাম্বারে কল করা হলে জানানো হয়, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের কারণে অফারটি সম্পন্ন করা যায়নি৷ তবে যুদ্ধের কারণে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের ফ্লাইট বন্ধ ছিল না- প্রতিবেদক এমনটি জানানোর পরে হটলাইন থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটির মালিক সঠিক তথ্য দিতে পারবেন৷ এর কিছুক্ষণ পরে মালিক পরিচয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি প্রতিবেদককে কল করে শাসানোর চেষ্টা করেন৷ একপর্যায়ে তিনি জানান, তারা কক্সবাজার ট্যুর বিজয়ীদের কয়েকজনকে কক্সবাজার ভ্রমণ করিয়েছেন, অনেককে সমমূল্যের নগদ অর্থ দিয়েছেন৷ তবে এসবের প্রমাণ চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন৷ একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে প্রতিবেদককে হুমকি দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন৷