নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের (বাইগাম) মহাসচিব মো. ইন্তেজার রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্যে সদস্য হওয়া, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও নানা রকমের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে সংগঠনের সদস্য মো. সুলতান হোসেন সম্প্রতি সংস্থার সভাপতির বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সংস্থার কর্মচারীদের ৭ মাসের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধে তার স্বেচ্ছাচারিতা, যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কর্মচারী নিয়োগ, কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, সংস্থার গাড়ি তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, টেন্ডার ছাড়া কাজ দিয়েছেন মহাসচিব মো. ইন্তেজার রহমান।
বাইগামের মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা ইন্তেজার রহমান তার প্রকৃত বয়স ও চাকরিকালীন সময়ের পদবী সংক্রান্ত বিষয়ে বাইগামের সদস্যভুক্তি ফরমে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। আবেদন ফমের বিশেষ শর্তাবলীর ৫ নং ধারা অনুযায়ী সদস্য পদ লাভের ক্ষেত্রে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিলে বাইগামের সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবার বিধান রয়েছে।
অথচ তার ক্ষেত্রে সেই বিধান অকার্যকর করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তিনি তার সরকারি পেনশন বইয়ে ( পেনশন শনাক্তকরণ নং ২২০২০৫-৩২২) জন্ম তারিখ উল্লেখ রয়েছে ০১/০১/১৯৫৫ এবং পদবী সহ: পুলিশ সুপার দেখানো হয়েছে। অথচ বাইগামের আজীবন সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে তার জাতীয় পরিচয় পত্র নং ২৬৯০২৪৩৮০৫১২০ জন্ম তারিখ ০১/০৫/১৯৫৬ এবং পেশা ক্রমিকে পুলিশের সিনিয়র এএসপি উল্লেখ করেছেন।বাইগামের আবেদন ফরমের বিশেষ শর্তালীর ৫ নং ধারা অনুযায়ী সদস্য পদ লাভের ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ, মিথ্যা কিংবা ভুল তথ্য প্রদান করায় বাইগামের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হওয়ার কথা। তার বাতিলের বিষয়টি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংস্থার সভাপতি, সমাজকল্যাণ ও স্বাস্থ্য সেবা মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সংস্থার অনেক সদস্য মহাসচিবের অপসারণ দাবি করেছেন।
বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে এমন চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। আরো ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে মহাসচিব নিজের ক্ষমতাবলে সংস্থার কর্মচারীদের ৭ মাসের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। ফলে এই সব কর্মকর্তা আর কর্মচারীরো বেতনের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ফলে অনেকটাই উতপ্ত হয়ে উঠেছে একই সঙ্গে ভেঙে পড়েছে সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম।
জানা গেছে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধিভুক্ত ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের (বাইগাম) রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেঁধেছে অনিয়ম আর দুর্নীতি। অপ্রয়োজনীয় নিয়োগ, কেনাকাটায় কমিশন বাণিজ্য, ব্যক্তিগত কাজে প্রতিষ্ঠানের সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার, অযাচিত ব্যয়- এমন নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে জনহিতকর প্রতিষ্ঠানটি।এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের (বাইগাম) সভাপতি মো. সামশুল হক এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পুরাতন কমিটি বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার পর থেকে দরখাস্ত দেওয়া শুরু করেছে। একের পর এক অভিযোগ আসছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সরকারি ভাতা পাচ্ছি না বলে শিকার করেন। বর্তমান কমিটি ভেঙে দিলে তারা ( অভিযোগকারীরা) বেতন পাবেন না বলে জানান সামশুল হক।অভিযোগের বিষয়ে মতামত জানার জন্যে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের (বাইগাম) মহাসচিব মো. ইন্তেজার রহমানের হোয়াটসএ্যাপে ডকুমেন্টস সম্বলিত বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন রেসপন্স করেন নি।