ঈদকে সামনে রেখে বিশাল মাদকের মজুদ: রাজশাহীতে ৭৫ কেজি গাঁজাসহ ২ কারবারি গ্রেপ্তার
আজিজুর ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার:
২৪ মে ২০২৬, রাজশাহীতে মাদক চোরাচালান ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। জেলার চারঘাট এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ দুই শীর্ষ মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।অভিযানকালে একটি বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৫টি বস্তায় ভর্তি মোট ৭৫ কেজি গাঁজা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোফেজ আলী ও লাইলি বেগম। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদকের বড় বড় চালান কেনাবেচা করে আসছিলেন বলে জানা গেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর একটি বড় মাদক ব্যবসায়ী চক্র সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান এনে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করছে এমন একটি গোপন ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ আসে গোয়েন্দাদের কাছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে আজ ২৪ মে (রবিবার) রাজশাহী বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল জেলার চারঘাট থানার শলুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত লাইলি বেগমের বাড়িতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। তল্লাশিকালে ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখা ৩৫টি বড় বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তা গুলো খুলে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৭৫ কেজি অবৈধ গাঁজা জব্দ করা হয় এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে মোফেজ ও লাইলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজশাহী বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো: আলী আসলাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে মাদক কারবারিরা বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। তারা এই বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করেছিল। কিন্তু আমাদের কঠোর নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঠিক সময়ে অভিযান চালিয়ে এই বড় চালানটি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাদক নির্মূলে তাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও চিরুনি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। চলতি মাসে মাদকবিরোধী অভিযানের পরিসংখ্যান অতিরিক্ত পরিচালক মো: আলী আসলাম হোসেন সামগ্রিক মাদকবিরোধী অভিযানের একটি চিত্র তুলে ধরে জানান, মে মাসের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলায় কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে।
মোট মামলা: ৫১৬ টি মাদকবিরোধী মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার: সাড়ে পাঁচ শতাধিক (৫৫০+ ) আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
রুট ও মাদকের ধরণ: ভারত থেকে অবৈধ সীমান্ত পথ ব্যবহার করে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন এবং ক্ষতিকর ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসছে। এসব চোরাচালান রোধে সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে চারঘাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এই চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।