নিজস্ব প্রতিবেদক।। শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়াসহ বিভিন্ন অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ও নামসর্বস্ব অজস্র ডেন্টাল ক্লিনিক। কোনো স্বীকৃত বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধন কিংবা ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) ডিগ্রি ছাড়াই এসব ক্লিনিকে চলছে দাঁতের জটিল সব অপচিকিৎসা। এমনকি অধিক মুনাফা লাভের আশায় দাঁত ক্যাপ করা বা ফিলিংয়ের কাজে চিকিৎসাসামগ্রীর বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে জুতার বিষাক্ত আঠা। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ এবং মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে পুরো শিল্পাঞ্চল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে জামগড়া ও আশপাশের এলাকায় একদল ভুয়া চিকিৎসক চেম্বার খুলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: বিকল্প ডেন্টাল: চিকিৎসায় নিয়োজিত কথিত ডাক্তার শামীম। মোহাম্মদ ডেন্টাল: পরিচালনায় জহির নামক জনৈক ব্যক্তি।
রকি ডেন্টাল: তথাকথিত চিকিৎসা দিচ্ছেন জয়নাল।হাজী ডেন্টাল: পরিচালনায় রুহুল নামক ব্যক্তি।মাহি ডেন্টাল ও লিটন ডেন্টাল: বিএমডিসি সনদ ছাড়াই পরিচালিত অন্য দুই প্রতিষ্ঠান। বিএমডিসি আইন অনুযায়ী,নিবন্ধিত বিডিএস ডিগ্রিধারী ব্যতীত অন্য কারও নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার কিংবা ডেন্টাল চিকিৎসা প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ এই চক্রটি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই নিজেদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে দাবি করে রোগীদের বিভ্রান্ত করছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, রোগীদের স্বাস্থ্য নিয়ে এই চক্রের চরম দায়িত্বহীনতা। নিয়ম অনুযায়ী দাঁতের ফিলিং বা ক্রাউন বসাতে বিশেষায়িত ‘ডেন্টাল সিমেন্ট’ ব্যবহারের বিধান থাকলেও খরচ কমাতে এরা ব্যবহার করছে নিষিদ্ধ পারদ (কপার অ্যামালগাম) ও জুতার শিল্পে ব্যবহৃত বিষাক্ত আঠা (ডেন্ড্রাইট বা সুপার গ্লু জাতীয় রাসায়নিক)।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এসব ক্ষতিকারক রাসায়নিক লালা ও খাবারের সঙ্গে পেটে প্রবেশ করলে লিভার, কিডনি ও পাকস্থলী স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া জীবাণুমুক্তকরণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনিরাপদ সরঞ্জামের মাধ্যমে হেপাটাইটিস ‘বি’, ‘সি’ এবং এইচআইভি (HIV)-এর মতো প্রাণঘাতী রোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
জামগড়া এলাকার এক ভুক্তভোগী পোশাকশ্রমিক নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“দাঁত ব্যথার কারণে রকি ডেন্টালে গিয়েছিলাম। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তারা একটি দাঁত তুলে সেখানে আলগা দাঁত বসিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বুঝতে পারি যে তারা সাধারণ জুতার আঠা ব্যবহার করেছে। রাসায়নিকের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধে এখন আমি স্বাভাবিক খাবারও খেতে পারছি না।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাড়া-মহল্লায় এসব অবৈধ ক্লিনিকের সক্রিয়তা বাড়লেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়ছে না। চিকিৎসাসেবার নামে এমন জালিয়াতি বন্ধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
চলবে……