১১ হাজার ভোল্টের লাইনে দাউ দাউ আগুন: তানোরে ফায়ার সার্ভিসের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে রক্ষা পেল ফসলি জমি!
আজিজুর ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার:
তানোর (রাজশাহী): হু হু করে জ্বলছে আগুন, আর ঠিক তার নিচেই মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঠ। যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা! ঠিক এমনই এক গা শিউরে ওঠা ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল রাজশাহীর তানোর উপজেলার যুগিশো মোড় এলাকায়।
মাঠের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক মেইন লাইনে হঠাৎ করেই লেগে যায় ভয়াবহ আগুন। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জীবনবাজি রাখা ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের ফলে অবশেষে এক বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে পুরো এলাকা।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুগিশো মোড় এলাকার একটি ফসলি জমির ওপর দিয়ে চলে গেছে ১১ হাজার ভোল্টেজ-এর একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেইন ইলেকট্রিক লাইন। প্রতিদিনের মতোই সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বৈদ্যুতিক পিলারের মাথায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা বিদ্যুতের তার ও খুঁটির মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। ওপর থেকে আগুনের ফুলকি নিচে পড়তে থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় কৃষকরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি চৌকস দল।
জীবন বাজি রেখে ফায়ার সার্ভিসের ‘অপারেশন থ্রিল’
১১ হাজার ভোল্টের সচল লাইনে পানি ছিটানো চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য একটু এদিক-সেদিক হলেই ঘটতে পারত বড় ধরনের প্রাণহানি। কিন্তু সেই ভয়কে জয় করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত মাঠে নেমে পড়েন। ফসলি জমির মাঝখানে দাঁড়িয়ে, পাইপ উঁচিয়ে সরাসরি আগুনের উৎস লক্ষ্য করে তারা পানি ছিটানো শুরু করেন। এদিকে রাস্তার পাশে জটলা পাকিয়ে উৎসুক জনতা তখন বুক দুলিয়ে দেখছেন সেই রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান।
প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার অবিরাম, অক্লান্ত এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টার পর অবশেষে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য: হঠাৎ খুঁটির মাথায় আগুন দেখে আমরা সবাই ভয়ে কাঁপছিলাম। নিচে আমাদের এত কষ্টের ফসল! যদি আগুন পুরো মাঠে ছড়িয়ে পড়ত, তবে সব শেষ হয়ে যেত। ফায়ার সার্ভিসের ভাইয়েরা যেভাবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নেমে দ্রুত আগুন নেভালেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
বড় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা
বিদ্যুৎ লাইনের এই ভয়াবহ আগুন যদি সময়মতো নিয়ন্ত্রণে না আসত, তবে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারত। সেই সাথে আশেপাশের এলাকায় বড় ধরনের বৈদ্যুতিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কাও ছিল শতভাগ। ফায়ার সার্ভিসের এই বীরত্বপূর্ণ ও সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রেখে লাইন সংস্কারের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।