নিজস্ব প্রতিবেদক।। “হ্যালো, আপনে কি ওসি স্যার। স্যার আমার স্বামী গত তিনবছর ধরে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে হাজতে বন্দি আছে। করোনার জন্য বাহিরে বের না হইতে পারার জন্য ঘরে, চাল ডাল কিচ্ছু নাই স্যার। শুনছি আপনে সবাইরে খাওনের ব্যবস্থা করে দেন, স্যার আমারেও খাওন ও বাচ্চা দুধের ব্যবস্থা কইরা দেন” এভাবে কান্নারত অবস্থায় করোনার দিনগুলোতে দুর্দশার কথা চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামকে জানাচ্ছিলেন সাজাপ্রাপ্ত আসামির পরিবার। ঘটনা শুনতে পারার সাথে সাথেই পরিবারটির জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করেন তিনি।
আজ (২৬ এপ্রিল) সকালে একটি ফোনকলের মাধ্যমে ওই নারীর অর্তনাদ শুনে তিনি ঐ পরিবারটি জন্য খাদ্য সহায়তা, বাচ্চার দুধ ও ওষুধের ব্যবস্থা করে দেন।
জানা যায়, ফোনকলের ঐ নারীর স্বামী মোঃ জিলাম হোসেন মাদক মামলাতে বিগত তিন বছর থেকে সাজা ভোগ করছিলেন। পরিবারের উর্পাজনের একমাত্র ওই নারী থাকলেও করোনার প্রভাবে সকল কাজ বন্ধ হলে তিনি খাদ্যের অভাবে দিন পার করতে থাকেন। এক পর্যায়ে পুলিশ সুপারের করোনা দিনগুলোতে খাদ্যের অভাবে কেউ না খেয়ে থাকবে না এমন মাইকিং প্রচারণা থেকে মুঠোফোনের নাম্বার সংগ্রহ করে পুলিশ সুপারের নিকট খাদ্যের জন্য সাহায্য চান।
পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানান, মুঠোফোনে কলের মাধ্যমে জানতে পেরে ঐ নারীর পরিবারের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ লকডাউন ঘরে অবস্থান করা সকলকে খাদ্যের ব্যবস্থা করা হবে। লকডাউনের এসময়ে সকলকে ঘরে অবস্থান করে করোনাযোদ্ধা হিসেবে সকলকে সুস্থ রাখার আহবান জানান পুলিশ সুপার।