ঢাকা।। নানা নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বিএসএমএমইউ) খরচসহ নিজেদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস নির্ণায়ক ‘জি র্যাপিড ডট ব্লট’ কিট হস্তান্তর করল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। প্রথম দফায় পরীক্ষার জন্য ২০০ কিট দেয়া হয়েছে। পরে আরো ২০০ কিট দেয়া হবে।
বুধবার (১৩ মে) বেলা সোয়া ১১টার দিকে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালের প্রধান বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও সমন্বয়ক ড. মহিবুল্লাহ খন্দকার বিএসএমএমইউতে গিয়ে কিট জমা দেন। এখন চাইলে যেকোনো সময় এই কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা শুরু করতে পারবে বিএসএমএমইউ।
কিট হস্তান্তর প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ গতকাল আমাদের চিঠি দিয়েছিল। চিঠিতে পরীক্ষার খরচ বাবদ ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ও পরীক্ষার জন্য ২০০ কিট জমা দিতে বলা হয়েছে। গতকাল দুপুরে সেই চিঠি আসায় আমরা ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে কিট দিতে পারিনি। তবে আজ বুধবার সকাল নয়টা থেকেই আমরা কাজ শুরু করি। সকাল ১১টার দিকে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়াসহ বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা কিট পৌঁছে দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, এতদিন পর তারা (বিএসএমএমইউ) কিট নিয়েছে, আমি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। এখন তারা পরীক্ষার কাজটি শুরু করলেই হয়।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আসলে করোনা তো আমার একার সমস্যা না। এটি জাতীয় সমস্যা। আমাদের যত সক্ষমতা আছে সবকিছু নিয়েই একে মোকাবিলা করতে হবে। এই গুরুত্বটি বুঝতে হবে। ব্যাপক হারে পরীক্ষা ছাড়া কোনোভাবেই করোনা জয় সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের কিট দেশের মানুষের মনে আশার সঞ্চার করবে। এটুকুই বলতে পারি।
বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেয়া নভেল করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে বাংলাদেশ এখন আমদানি করা কিটের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যেই দেশীয় প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান বিজ্ঞানী ও গণবিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিজন কুমার শীল কোবিড-১৯ রোগ শনাক্তে কিট উদ্ভাবনের কথা জানান গত মার্চ মাসের প্রথমার্ধেই।
গত ১৯ মার্চ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে করোনাভাইরাসের কিট উৎপাদনের অনুমতি পায়। গত সাপ্তাহে চীন থেকে কাঁচামাল(রি-এজেন্ট) আসার পরপরই কিটের স্যাম্পাল তৈরি করার কাজ শুরু করে তারা।
বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে এই কাজে যুক্ত রয়েছেন ড. ফিরোজ আহমেদ, ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাইদ জমিরুদ্দিন, ও ড. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার।
‘র্যাপিড ডট ব্লট’ নামের এই পদ্ধতিতে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য খরচ হবে তিন‘শ থেকে সাড়ে তিন‘শ টাকা বলে জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএমএমইউকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিটের সক্ষমতা যাচাইয়ে পরীক্ষা করার অনুরোধ করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এরপর ২ মে বিএসএমএমইউ’র উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক দল। ওই বৈঠকে কিটের সক্ষমতা পরীক্ষা করতে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
পরে বিএসএমএমইউ’র বিলম্ব দেখে গত সোমবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তাদের উদ্ভাবিত কিট ব্যবহারের জন্য সরকারের কাছে সাময়িক সনদ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে কর্তৃপক্ষ।