নিজস্ব প্রতিবেদক সাভার।। দেশের বিভিন্ন জেলায় কখনো জজ ও কখনো বিচারপতি পরিচয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ফোন দিয়ে অভিনব কায়দায় সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতো আবু বক্কর সিদ্দিক (২৮)নামের এক প্রতারক এ ঘটনায় তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার ও আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বিপ্লব। গ্রেপ্তার প্রতারক আবু বক্কর সিদ্দিক রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার মাউরাট গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার সফিকুল কাজীর ভাড়াটিয়া। উক্ত বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ বলেন,গত কয়েক মাস যাবৎ আবু বক্কর সিদ্দিক বিভিন্ন সময়ে নিজেকে কখনো জজ কখনো বিচারপতি পরিচয় দিয়ে ঢাকা,নারায়নগঞ্জ,গাজীপুর,মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন করে।
এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করার জন্য সে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন দেয়। সে একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে সেখানে যেকোন একটি গাড়ীকে টার্গেট করে। অতঃপর ঐ স্থানে কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে নিজেকে জজ বা বিচারপতি পরিচয় দিয়ে গাড়িটি-কে আটক করতে বলে। পুলিশ কর্মকর্তা গাড়ীটি-কে আটক করলে সে পুলিশের মাধ্যমে গাড়ীর মালিকের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। তারপর গাড়ীর মালিকের নিকট থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ বিভিন্ন অংকের টাকা বিকাশের মাধ্যমে নিয়ে যায়। তারপর পুলিশকে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলে।
এইভাবে সে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ঢাকা জেলা পুলিশ আরও বলেন, এছাড়াও সে পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন দিয়ে নিজেকে জজ-বিচারপতি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ গাড়ী রয়েছে মর্মে অভিযান পরিচালনা করতে বলে। এভাবে সে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন যাবত হয়রানী করে আসছে। এমন ধরনের একটি অভিযোগ ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এর নিকট আসলে তিনি অপরাধী- কে গ্রেপ্তারের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মোবাশশিরা হাবিব খান-কে নির্দেশ প্রদান করেন। পরে মঙ্গলবার বিকেলে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বিপ্লব বলেন, আমাদের অফিসার এসআই জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম উক্ত প্রতারক-কে গ্রেপ্তার করার জন্য কাজ শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে জেলা গোয়েন্দা শাখা (উত্তর) এর একটি আভিযানিক দল উক্ত প্রতারককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রতারকের ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা রুজুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা সে ব্যাপারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/রাজু