গোদাগাড়ীতে সিসি ক্যামেরায় ‘ক্লু’: হেরোইন দিয়ে ফাঁসানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ,তোলপাড়!
আজিজুর ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সরমংলা লালবাগ এলাকায় গভীর রাতে অভিনব কায়দায় এক ব্যক্তির বাড়িতে হেরোইন রেখে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁসের পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মনে এখন বড় প্রশ্ন এটি মাদকবিরোধী খাঁটি অভিযান, নাকি সুপরিকল্পিত কোনো ষড়যন্ত্র? গভীর রাতের রহস্যময় ১ মিনিট!
ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমানের পরিবারের দাবি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গভীর রাতে মুখ ঢাকা অবস্থায় এক রহস্যময় ব্যক্তি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বাড়ির পেছনের অংশ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। ঠিক এক মিনিটের মাথায় সে আবার দ্রুত গতিতে ওই স্থান ত্যাগ করে। পরিবারের অভিযোগ, এই সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান ব্যক্তিই মূলত রান্নাঘরের পাশে হেরোইন রেখে এসেছিল। শুধু তাই নয়, ওই সময় বাইরে রাস্তায় আরও দুইজন পাহারায় নিয়োজিত ছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে।আঁতাত’ নাকি কাকতালীয়?
রহস্যময় ব্যক্তি চলে যাওয়ার ঠিক পরপরই সেখানে হানা দেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রায় ১২ সদস্যের একটি বিশেষ দল। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার জানায়, তল্লাশির শুরুতেই অভিযানের কয়েকজন সদস্য সোজা রান্নাঘরের দিকে ছুটে যান এবং সেখান থেকেই হেরোইন উদ্ধারের ঘোষণা দেন। গভীর রাতের এই ঝটিকা অভিযান এবং মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে মাদক রেখে যাওয়া ও উদ্ধারের এই পুরো ক্রমান্বয়কে “সাজানো নাটক” বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
সিসি ক্যামেরাই এখন বড় হাতিয়ার
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালেও একই ধরনের একটি রহস্যজনক মাদক মামলায় হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় দীর্ঘ ছয় মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে নিজের নিরাপত্তা এবং নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য পুরো বাড়ি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসেন তিনি। এবার সেই ক্যামেরার চোখেই ধরা পড়ল অভিযানের আগের চাঞ্চল্যকর দৃশ্যপট।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়, সেজন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজসহ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।