লাশ আর অসুস্থতা যেখানে ব্যবসার হাতিয়ার: রামেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি মানুষ।
আজিজুর ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার:
হাসপাতালের করিডোরে যখন স্বজন হারানোর কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, কিংবা আশঙ্কাজনক রোগীকে দ্রুত অন্য কোথাও নেওয়ার জন্য যখন চলে তীব্র আকুতি ঠিক তখনই একশ্রেণীর মানুষের কাছে সেটি হয়ে ওঠে পকেট কাটার সুবর্ণ সুযোগ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একটি শক্তিশালী অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এমনই অমানবিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
যেভাবে জিম্মি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ভাড়ার নামে পকেট কাটা: রোগী ও মরদেহ বহনের সময় এই চক্রটি সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নেয়। স্থানীয় রুটের পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রায় সাধারণ ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা দাবি করা এখন নিত্যদিনের ব্যাপার।
কোনো স্বজন যদি নিজেরা কম ভাড়ায় বাইরে থেকে অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে চান, তবে তাতে সরাসরি বাধা দেয় এই চক্র। হাসপাতালের ভেতর বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে না দিয়ে একচেটিয়া রাজত্ব চালাচ্ছে তারা।
দালালদের মানসিক চাপ: হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মূল ফটকে সার্বক্ষণিক ওত পেতে থাকে সিন্ডিকেটের দালালরা।রোগী আসার সাথে সাথেই বা কেউ ছাড়পত্র পাওয়ার পরপরই স্বজনদের ঘিরে ধরে নিজেদের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারে বাধ্য করা হয়।
চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে এমনিতেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন অধিকাংশ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোগী। তার ওপর হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্স চালক ও দালালদের এই জোরজুলুমকে ভুক্তভোগীরা,মড়ার ওপর খাড়ার ঘা,হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই অরাজকতা চললেও তাদের থামানোর যেন কেউ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং সচেতন নাগরিকদের মতে, হাসপাতাল এলাকায় এই সিন্ডিকেট প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও হয়রানি চালালেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। অসহায় রোগীদের এই জিম্মদশা থেকে মুক্তি দিতে অবিলম্বে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও আশেপাশে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং একটি নির্দিষ্ট ও সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার তালিকা কার্যকর করার জোরালো দাবি উঠেছে।