ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ২০০তম পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত: নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার প্রস্তুতি সম্পন্ন।
নাজমুল ইসলাম নাহিদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০০তম পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত। দেশের সর্ববৃহৎ এই ঈদ জামাতকে ঘিরে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ গ্রহণ করেছে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা পরিকল্পনা। মূল লক্ষ্য—প্রতিবারের মতো এবারও মুসল্লিদের জন্য একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১১টায় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার জানান, বিশাল এই আয়োজনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো ঈদগাহ মাঠ ও আশপাশ এলাকাকে কয়েকটি সেক্টরে বিভক্ত করে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
বহুমাত্রিক নিরাপত্তা: পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, আনসার সদস্য এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে থাকবেন।
ময়দান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আকাশপথে ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে এবং শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে সুশৃঙ্খল পার্কিংয়ের জন্য মুসল্লিদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
মুসল্লিদের প্রতি পুলিশের বিশেষ অনুরোধ
নিরাপত্তার স্বার্থে এবং দ্রুত তল্লাশি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মুসল্লিদের প্রতি কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
শুধুমাত্র জায়নামাজ সঙ্গে আনা যাবে। ছাতা, ব্যাগ, লাঠি বা যেকোনো প্রকার ধাতব বস্তু বহন না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
নামাজের সময়ের পূর্বেই মাঠে উপস্থিত হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মাজহারুল ইসলাম এমপি, জেলা প্রশাসক জনাব সোহানা নাসরিন এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “শোলাকিয়ায় আগত প্রত্যেক মুসল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দেশের বৃহত্তম এই ঈদ জামাতকে উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশ শতভাগ প্রস্তুত। আপনাদের সচেতনতাই আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।”
ঐতিহ্যবাহী এই জামাতকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করতে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। সেই সাথে দেশবাসীকে জানানো হয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহার অগ্রিম শুভেচ্ছা—ঈদ মোবারক!