সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ১ হাজার লিটার চোলাইমদ ও ১০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪
মোস্তাবিন সিয়াম বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় পৃথক তিনটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার লিটার চোলাইমদ ও ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চারজন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
উদ্ধার হওয়া চোলাইমদের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং ইয়াবার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— আশুলিয়ার চাঁনগাঁও এলাহী মার্কেট এলাকার শান্ত ইসলাম রহিম (২২), সাভারের রাজফুলবাড়িয়া (শাপলা হাউজিং) এলাকার আলমগীর হোসেন (৩১), রাঙ্গামাটির জুরাইছড়ি উপজেলার সুমন মারমা (৪৫) এবং তার স্ত্রী কালাবি চাকমা (৩৮)। সুমন ও কালাবি বর্তমানে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর নতুনপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ডিবি সূত্র জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ডিবি উত্তর-এর ওসি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পৃথক তিনটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রথম অভিযানে ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে আশুলিয়ার টংগাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ শান্ত ইসলাম রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে সাভারের শোভাপুর রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় আরও একটি অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আলমগীর হোসেনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আলমগীরের বিরুদ্ধে এর আগেও একটি মাদক মামলা রয়েছে।
এরপর ১৮ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর নতুনপাড়া এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় সুমন মারমা ও তার স্ত্রী কালাবি চাকমাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, “মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। মাদক উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ চোলাইমদ স্থানীয় বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।