বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে জেলের জালে ২০ কেজির কোরাল
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পর বড় মাছের দেখা | ৩৬ হাজার টাকায় বিক্রি | প্রতি কেজি ১,৮০০ টাকা
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের বাগেরহাটের শরণখোলায় জহুরুল পহলান নামে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ২০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির একটি কোরাল মাছ। সোমবার সকালে সুন্দরবনের ভোলা নদীতে জাল ফেলার পর প্রথম টানেই মাছটি উঠে আসে।
পরে সকাল ১০টার দিকে শরণখোলা বাজারের মৎস্য আড়ৎদার শাহাদাত মুন্সী মাছটি ৩৬ হাজার টাকায় কিনে নেন। এতে প্রতি কেজি কোরালের দাম পড়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা।
বন বিভাগ ও স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর গত এক মাসে সুন্দরবনের জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় কোরাল।
জেলে জহুরুল জানান, বন বিভাগের শরণখোলা স্টেশন থেকে পাস নিয়ে ভোলা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিনি। সকালে নদীতে জাল ফেলার কিছুক্ষণ পর জালের ভাসনা ও রশিতে অস্বাভাবিক টান অনুভব করেন। পরে দ্রুত জাল টানতেই বিশাল কোরাল মাছটি উঠে আসে।
তিনি বলেন, মাছটি জালে ওঠার পর আর দেরি করেননি। নৌকা চালিয়ে দ্রুত ঘাটে ফিরে আসেন। পরে নিলামের মাধ্যমে মাছটি বিক্রি করেন। বড় মাছটি বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এই জেলে।
মাছটির ক্রেতা শরণখোলা বাজারের মৎস্য আড়ৎদার শাহাদাত মুন্সী বলেন, ‘গত এক মাসে সুন্দরবন থেকে কোরালসহ বিভিন্ন প্রজাতির যে মাছ এসেছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। বড় আকারের কোরাল সবসময় পাওয়া যায় না। বড় মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি। কেজিতে দুই-তিনশ টাকা লাভে বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, জেলের জালে ২০ কেজি ওজনের কোরাল মাছ ধরা পড়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। সুন্দরবনে প্রায়ই বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ ধরা পড়ার খবর পাওয়া যায়। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে এখন সেসব মাছ জেলেদের জাল ও বড়শিতে ধরা পড়ছে। এতে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন।