আহসান টিটু, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : বাগেরহাটে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিরাপদ সড়ক চাই বাগেরহাট জেলা শাখা ও কাটাখালী হাইওয়ে থানা পুলিশ ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে গতি মাপার যন্ত্রসহ পৃথক মেশিনের মাধ্যমে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই, চালকদের শরীরের এ্যালকোহলের উপস্থিতি নির্ণয় করে হাইওয়ে পুলিশ।
এসময় নিরাপদ সড়ক চাই, বাগেরহাট জেলা শাখার আহবায়ক আলী আকবর টুটুল, সদস্য এসএস শোহান, সাংবাদিক এসএম সবুর রানা, শামীম আহসান মল্লিক, কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামসহ হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষা নিরিক্ষা করে যেসব চালকদের যানবাহনের কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স সঠিক পাওয়া গেছে এবং চালকের শরীরে এ্যালকোহলের উপস্থিতি নেই সেসব চালকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই বাগেরহাট সংগঠন। নিরাপদ সড়ক চাই ও মহাসড়ক পুলিশের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে যাত্রীরাও।
ট্রাক চালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমি সব সময় সড়কের সকল আইন-কানুন মেনে গাড়ি চালাই। হাইওয়ে পুলিশ গাড়ির সকল কাগজপত্র, আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও শরীরে এ্যালকোহলের উপস্থিতি পরীক্ষা করে সকল কাগজপত্র সঠিক আছে তার প্রমাণ পায়। আমার শরীরে কোন প্রকার এ্যালকোহলের উপস্থিতি পায়নি। আমার শরীরে এ্যালকোহল পায়নি পুলিশ এই মর্মে আমাকে একটি টোকেন দেয়। নিরাপদ সড়ক চাইয়ের পক্ষ থেকে আমাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানায়। নেশা মুক্ত থেকে গাড়ি চালানোর স্বীকৃতি পেলাম এজন্য আমার খুব ভাল লাগছে। সকল চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আমার আবেদন যাতে সবাই নেশামুক্ত থেকে গাড়ি চালায়।
যাত্রী শাহীন হোসেন বলেন, প্রতিদিনই সকাল সন্ধ্যা খুলনা-মোংলা মহাসড়কে গন পরিবহনে যাতায়েত করি। আজকে দেখলাম আমাদের বাসের চালককে পুলিশ পরীক্ষা করলেন। আমাদেরকে জানালেন এই চালক এ্যালকোহল মুক্ত। বিষয়টি জেনে ভাল লাগছে। একটি বদ্ধ ধারণা ছিল, চালকরা এ্যালকোহল বা নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে গাড়ি চালনা করেন। আজ এ ভুল ভাঙল।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা মেশিনের মাধ্যমে চালকদের শরীরে এ্যালকোহলের উপস্থিতি নির্ণয়, গতিসীমা রক্ষা করতে স্পীড গান ব্যবহার করছি। যার ফলে চালকরা আরও বেশি সতর্ক হচ্ছে। আশা করি এ ধারাবাহিকতা থাকলে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।