খুলনা প্রতিনিধিঃ খুলনার রূপসায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গলদা চিংড়ি হেডলেস করেকোম্পানীতে সরবরাহ করার প্রচেষ্টাসহ চিংড়ি ডিপোর লাইসেন্স না থাকার অপরাধে তিন ব্যবসায়ীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৮৭৫ কেজি হেডলেস গলদা চিংড়ি জব্দ করে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। একই সাথেহিমায়িত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত কারখানা ব্রাইট সী ফুডকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দকৃত চিংড়ির আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
ভোক্তা অধিকার আইন এবং মৎস্য ও মৎস্যপন্য (পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রন) বিধিমালা, ১৯৯৭-নংশোধিত ২০০৮ মোতাবেক ৭ নভেম্বর সকালে অভিযুক্তদেরএই সাজা ও জরিমানা করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন আক্তার।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মোড়লগঞ্জ উপজেলার বাদরা গ্রামের আঃ রশিদের ছেলে সাগর (২৮), চিতলমারী উপজেলার শিবপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আমিনুল শেখ (২৭) ও একই উপজেলার বারাশিয়া গ্রামের নওয়াব আলীর ছেলে আজিজুর হাওলাদার (৩২)।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন আক্তার বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে ৬ নভেম্বর রূপসা থানা পুলিশ পূর্ব রূপসা এলাকায় অপদ্রব ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিংড়ি সরবরাহ সংক্রান্ত অভিযান চালায়। রাত তিনটার দিকে চিংড়িবাহী একটি পিকআপ ও দু’টি টেম্পোকে সিগনাল দিলে তারা পুলিশের সিনাল অমান্য করে দ্রæত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে চিংড়ি বোঝাই একটি টোম্পো পূর্ব রূপসাস্থ ব্রাইট সী-ফুডস এ ঢুকে পড়ে। বাকী টোম্পো ও পিকআপ কোম্পানীর পাশে অবস্থান নেয়। পুলিশ দ্রæত দু’টি টোম্পো ও পিকআপ আটক করে ১৪টি ক্যারেটে থাকা ৮৭৫ কেজি হেডলেস গলদা চিংড়ি জব্দ করে। ভোর ৫টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক তিন ব্যবসায়ীকে এক মাসের সাজা ও ব্রাইট স্যী ফুডকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে জব্দকৃত চিংড়ি থানায় এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতে ১১টি এতিম খানায় ৩৩০ কেজি গলদা বিতরণ করেন। বাকী চিংড়ি খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অন্যান্য এতিমখানায় বিতরণের জন্য খুলনায় প্রেরণ করেন। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রন পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম ও মো. তরিকুল ইসলাম, এস আই ইন্দ্রজিত, এস আই আব্দুল খালেক।
ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নাসরিন আক্তার বলেন, দেশের বৃহৎ স্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান রাখা হবে।