
মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ মেহেরপুর সদর উপজেলা বারাদি ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই আব্বাসের বিরুদ্ধে মহিলাসহ ৭ জনকে পিটিয়ে আহত করা সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (০৯ নভেম্বর) সকালে কলাইডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন মুকুলের স্ত্রী ফেরদৌসী খাতুন , মুকুলের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে জ্যোতি ও প্রীতি, তার চাচি আরবীয়া খাতুন, সিমা খাতুন, বাবলু মিয়া। আহতরা মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা কলাইডাঙ্গা গ্রামের কামরুজ্জামান মুকুল এবং আব্দুল হামিদ লিফন এই দুই পরিবারের মাঝে জমি জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে সেই জমিতে প্রাচীর দেওয়া ছিল। গত কয়েকদিন আগে বিবাদী পক্ষ আব্দুল হামিদ লিফনরা প্রাচীরটি ভেঙে দেয়। প্রাচীর ভেঙে দেওয়াই মুকুলদের বাড়ি ফাঁকা হয়ে যায়। এই দেখে মুকুল তার বাড়ির পরিবেশ ঠিক রাখতে ভেঙ্গে দেওয়া প্রাচীরের স্থানে বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়। বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল হামিদ বারাদি পুলিশ ক্যাম্পে অভিযোগ দেয়। বারাদি ক্যাস্প ইনচার্জ আব্বাস আলী সহ কয়েকজন পুলিশ এসে মুকুলের স্ত্রী সহ বাড়ির মহিলাদের উপরে লাঠিচার্জ করে।
এ বিষয়ে মুকুলের স্ত্রী আহত ফেরদৌসী খাতুন জানান, হঠাৎ করে বারাদি ক্যাম্পের পুলিশ আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং আমাদেরকে বিভিন্ন ভাষায় গালাগালি করে এ কথার প্রতিবাদ করলে আমার দুই মেয়ে সহ আমাকে লাঠিপেটা করে এবং আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আমার জামাকাপড় ছিড়ে দেয়। তারপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় আমার বুকে লাগে।
ঘটনায় আহত মনসুর আলীর স্ত্রী আরবীয়া খাতুন জানান, সকাল সাতটার দিকে সিভিল অবস্থায় পুলিশ বাড়িতে ঢুকেই কোন কথা না বলেই মারধর শুরু করে দেয়। এসময় বাড়িতে কোন পুরুষ লোক ছিল না কেউ বাথরুমে ছিল আবার কেউ বাইরে ছিল। প্রথমে আমার অসুস্থ সেজ ভাইকে হ্যান্ডকাফ লাগালে আমরা বলি ওদেরকে ছেড়ে দেন বলতেই ৪-৫জন পুলিশ যাকে যেমন পেয়েছে তাকে সেভাবে মারতে শুরু করে। সময় আমার মাজায় ও পিঠে দুইটা বাড়ি মারে।তারপর আমার ছেলের বউ কিছু বললে তাকে মারতে শুরু করে। এ সময় আমি আমার ছেলের বউকে ঠেকাতে গেলে পুনরায় আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। আমার ছেলের বউকে মারতে থাকে সময় আমার ছেলের বউ পড়ে গেলে তাকে লাথি আমার। এতে আমার ছেলের বউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি।পুলিশের মারধরের এক পর্যায়ে আমার সেজো ভাই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলে তাকে ফেলে রেখে আব্বাসসহ সকলে পালিয়ে যায়। বাড়ির যে ৪-৫ জন মেয়ে আমাদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে তারাও রেহাই পায়নি আব্বাসের হাত থেকে।
এরপর নজির আলি, সাজিব আর সোহানকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কামরুজ্জামান মুকুল বলেন, আমাদের পরিবারের সাথে আব্দুল হামিদ লিফনদের সাথে জমি জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। এবিষয় নিয়ে বারাদি ক্যাম্পে লিফন প্রায়ই অভিযোগ করে, আর প্রায়ই বারাদি ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই আব্বাস আমাকে বিভিন্ন হুমকি দেয়। বাড়িতে পুরুষ মানুষ না পেলে মহিলাদের কে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। গত সপ্তাহে আমার মেজো ভাই ও আমার স্ত্রীকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছিল এ সময় অনেকে বাধা দিলে নিয়ে যেতে পারিনি। যে জমি নিয়ে সমস্যা হচ্ছে সেই জমিতে প্রাচীর দেওয়া ছিল । সেই প্রাচীর বিবাদী পক্ষ ভেঙে দেওয়াই আমাদের বাড়িটির সীমানা ফাঁকা হয়ে যায়। ওই প্রাচীরের ওপর দিয়ে আমরা বেড়া দিলে লিফন বারাদি ক্যাম্পে খবর দেয়। আজ বারদী ক্যাম্পের এসআই আব্বাস আলী এসে বলে এই বেড়া কে দিয়েছে বলেই আমার চাচা বাবলুকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দেয়। বাবলু চাচাকে টানা হেঁচড়া করে নিয়ে যাওয়ার সময় সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় আমাদের বাড়ির মহিলারা আব্বাস আলীর সাথে কথা বলতে গেলে সে এবং তার সাথে থাকা সঙ্গীয় পুলিশ আমার পরিবারের লোকজনদের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে এবং সেইসাথে আমার বাড়িতে কাজ করছিল তিনজনকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, জমিজমা বিষয় নিয়ে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল। সে মামলায় আব্দুল হামিদ লিফন ৩নং আসামি। গতকাল শনিবার এ বিষয়ে নিয়ে এসআই আব্বাস আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে বলে মামলা তুলে নিতে হবে ও জমি-জমা ফেরত দিতে হবে। আমি বলি আপনি আইনের লোক হয়ে জনগণকে এ ধরনের কথা বলা ঠিক না। একথার জবাবে এসআই আব্বাস বলে তোর বাবাতো সন্ত্রাসী ছিল এমনিতে মার্ডার হয়েছে নাকি। মুকুল আরও বলেন, এসআই আব্বাস আলী বারাদি ক্যাম্পে আসার পর প্রতিনিয়ত এই জমিজমা বিষয় নিয়ে আমাদেরকে হুমকি দেয় এবং বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। ১০০ বছর ধরে এই জমিতে আমরা বাড়ি করে আছি। এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। মামলা শেষ হলে যার জমি সে পাবে। এর আগেও এসআই আব্বাস আলী আমার ভাইকে ধরে নিয়ে যেয়ে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়েছে। আমাকে প্রতিনিয়ত এখন হুমকি দেয়, যে তোকে ক্রসফায়ার দেবো। আমি সহ আমার পরিবারের সকলেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। মেহেরপুর পুলিশ সুপারের কাছে আমার একটি অনুরোধ আপনি এ বিষয়টি দেখবেন। এবিষয়ে
বারাদি ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই আব্বাস আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে অভিযোগ আসলে আমি ঘটনা স্থলে যায়। ঐ স্থানে গিয়ে দেখি প্রাচীরের উপর বেড়া দিচ্ছে মুকুলের পরিবার। আমি কয়েকটি কথা বলায় মহিলাদের সাথে কয়েকটি কথা হয়। তারপর আমি চলে আসি। মহিলাদের পিটিয়ে আহত করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সকল তথ্য মিথ্যা।
এবিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং সেখানে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। ঐ জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা চলছে। সেখানে প্রাচীর দেওয়া ছিল। প্রাচীর ভেঙ্গে যাওয়া মকুলের পরিবার বেড়া দেওয়াতে এ ঘটনাটি ঘটে। এসআই আব্বাসের বিষয়ে তিনি বলেন, কোন পুলিশ যদি মহিলাদের গায়ে হাত দেয় তাহলে ঘটনা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।