লামায় পৃথক হোল্ডিং ও খতিয়ান থাকার পরও কৃষিজমি দখল নিয়ে দুই পক্ষের বিরুদ্ধ
মোঃমাঈনুদ্দিন বান্দরবান প্রতিনিধি!
বান্দরবানের লামা পৌরসভার সাবেক বিলছড়ি ৬ নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের ভোগদখলকৃত পৈতৃক কৃষিজমি নিয়ে গুরুতর বিরোধ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষের চেয়ে সম্পূর্ণ পৃথক হোল্ডিং ও খতিয়ান থাকার পরও অনৈতিকভাবে তাঁদের জায়গা দখলের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। একই সাথে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কাজ বন্ধ রাখলেও প্রতিপক্ষ জাহেদা খাঁতুন গং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অনবরত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকার প্রবীণ কৃষক তাজুল ইসলামসহ স্থানীয় চাষিরা জানান, তাঁরা দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ এই জায়গাটি মোহাম্মদ ইউনুছের পিতা মরহুম সাহেব আলী মোল্লাকে চাষাবাদ করতে দেখেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর এখন তাঁর ছেলে ইউনুছ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। প্রবীণ কৃষক তাজুল ইসলাম আরও জানান, বর্ষা ও ভারী বৃষ্টির কারণে এই ফসলি জমিগুলোর পাড় ভেঙে দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পৈতৃক জমির এই ভাঙন রোধ করার জন্য মোহাম্মদ ইউনুছ সম্প্রতি একটি সুরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণ করতে গেলে জাহেদা খাঁতুন গং তাতে অন্যায়ভাবে বাধা সৃষ্টি করে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাঁধ নির্মাণে বাধা দেওয়ার পর জাহেদা খাঁতুন গং থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করে এবং এরই প্রেক্ষিতে আদালত থেকে ১৪৫ ধারার একটি নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশ পাওয়ার পর মোহাম্মদ ইউনুছ ও তাঁর পরিবার আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কাজ বন্ধ রাখার পরেও জাহেদা খাঁতুন গং ক্ষান্ত হয়নি। তারা ইউনুছ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য দিয়ে তীব্র অপপ্রচার ও বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে।
জমির কাগজপত্র ও অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, উক্ত জমির মালিকানা দাবিদার জাহেদা খাতুন ২০১৭ সালে তাঁর স্বামী আবদুল ওহাবের কাছ থেকে ক্রয় সূত্রে মালিক হন বলে দাবি করে যার হোল্ডিং নম্বর আর-৮৯। অন্যদিকে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইউনুছের পৈতৃক জমির খতিয়ানের যার খতিয়ান নম্বর হল ৫৬ খতিয়ান ও হোল্ডিং সম্পূর্ণ আলাদা। নথিপত্র অনুযায়ী দুই পক্ষের হোল্ডিং এবং খতিয়ান সম্পূর্ণ পৃথক ও ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় হওয়া সত্ত্বেও জাহাঙ্গীর গংরা গায়ের জোরে মোহাম্মদ ইউনুছদের বৈধ জায়গাটি দখল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। দীর্ঘ ৪৫ বছরের ভোগদখলীয় এই পৈতৃক জমির ওপর অনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই প্রতিপক্ষ গোপনে কাগজপত্রের অপকৌশল করে এই বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই অপপ্রচার এবং জায়গা দখলের চক্রান্তের কারণে পুরো ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম মানসিক ও সামাজিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
মোঃ ইউনুছের তোলা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাহেদা খাঁতুন সাথে যোগাযোগ করলে জাহেদা খাঁতুন এর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন আমাদের হোল্ডিং হলো দ্বিতীয় শ্রেণীর আর ইউনুছের হলো প্রথম শ্রেণীর খতিয়ান তাদের দাগ মূলে যদি ওই জায়গা তাদের হয় তাহলে খতিয়ান মূলে যায়গা তারা বুঝে নেক, তাদের প্রতি আমাদের কোন আপত্তি নাই।
পৃথক হোল্ডিং-খতিয়ান থাকার পরও এমন আকস্মিক বিরোধ সৃষ্টি, ভাঙন রোধের কাজে বাধা এবং ক্রমাগত মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে শান্তিপূর্ণভাবে এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।