লালমনিরহাট সংবাদদাতা।। এবার আদিতমারী হাসপাতালের ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধ থানায় সাধারন ডায়রী করেছেন হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম। যার জিডি নং-৮৪৭, তারিখ- ২১/১২/২০১৯ ইং।
জিডি সুত্রে জানাগেছে,লালমনিরহাটের আদিতমারী হাসপাতালের ক্যাশিয়ার (নিজ বেতনে) মোঃ আনোয়ারুল আজম বেশ কিছুদিন যাবত অফিসের ও ব্যক্তিগত বিষয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানী ও মানসম্মান হানি করার হুমকি প্রদান করে আসছেন প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক রফিকুল ইসলামকে। জিডিতে তিনি ক্যাশিয়ারকে একজন মাদকসেবী ও সন্ত্রাসী হিসেবেও উল্লেখ করেন। জিডিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে,বর্তমানে ক্যাশিয়ার আনোয়ারুল আজম এসএমএস,ম্যাসেনঞ্জার ও ফেসবুকের মাধ্যমে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক রফিকুল ইসলামের স্ত্রী একই হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ শেফালী বেগম এর প্রতি আক্রোশমূলক স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। বিধায় তারা দুজনেই শারীরিক ও মানসিকভাবে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছেন আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি)। আর সাধারন ডায়রীটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। জিডিতে অগ্রবর্তী করা হইল মর্মে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুপারিশ করেছেন।
এদিকে “আদিতমারী হাসপাতালের ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন গত ১৯ ডিসেম্বর “আমাদের বাংলাদেশ.কম” এ ছবিসহ প্রকাশ হলে টনক নড়ে ওই ক্যাশিয়ারের। সেই সাথে ছবিসহ সংবাদ প্রকাশের লিংকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য মন্তব্য আসতে থাকে। পরদিন একই অনলাইনে “আদিতমারী ক্যাশিয়ারের শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা” শিরোনামে আরো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর থেকে ক্যাশিয়ার আনোয়ারুল আজম হাসপাতালের কর্মরত অনেককে ম্যাসেনঞ্জারের মাধ্যমে হুমকি প্রদান করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আদিতমারী হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক রাশেদুল ইসলাম হেলাল বলেন, ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে আমি ওই সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার কারণে আমাকেও হুমকি প্রদান করেছেন বলে তিনি দাবী করেন। আবার ম্যাসেনঞ্জারে শত্রুরা হুশিয়ার সাবধান হলেও হুমকি প্রদান করেন আনোয়ারুল আজম।
আদিতমারী হাসপাতালের ক্যাশিয়ার (নিজ বেতনে) আনোয়ারুল আজমের মোবাইল ফোনে তার বিরুদ্ধে জিডি করার প্রসংগে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবী করেন। তিনি উল্টো এ প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন, ভাই আমার (ঘুমানোর ছবিটা) কে দিয়েছেন? দয়াকরে নামটা একটু বলবেন? আমি তার থেকে সাবধান হবো।
আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জিডি দায়েরে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/রিফাত