
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা।। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কাটা-ছিড়া, ফাটা-জখম, ভাঙ্গাচোরা, চিকিৎসায় যখন রোগী পাই তখন আমি সেলাই-ব্যান্ডেজ এরকম কাজে দুই রকম সূঁই ব্যবস্থার করি। টাকা বেশি পেলে ঝকঝকে নতন সূঁই আর বকশিস না দিলে ভোঁতা পুরান সূঁই। ভোঁতা সূঁই দিয়ে গোতা দিয়ে টাকা আপনা আপনি বের হয়”। তার ঘনিষ্ঠ মহলে এই অপকৌশলে ফায়দা হাতানোর রসালো গল্প করে থাকেন হাসপাতালের একজন ওয়ার্ডবয় নাম তার শাহ আলম।
জামালগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্সের ওয়ার্ডবয়। তার কাজ হলো ওয়ার্ডে থাকা রোগিদের এটাসেটা সহযোগি এগিয়ে এনে দিয়ে সহযোগিতা করা। তবে কর্ম তৎপরতা দেখলে বুঝাই যাবে না তিনি জামালগঞ্জে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি একটি হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়।
মূলত তিনি রোগীদের ওয়ার্ডে সেবাদানে সহযোগিতা করার কথা থাকলেও তিনি করেন গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিকের কাজ। যেকোন দূর্ঘটনায় হাড়ভাঙ্গা, ফাটা-জখম সেলাই, ছেলেদের মুসলমানি করানো,প্রভৃতি সব ধরণের ব্যান্ডেজ -প্লাস্টার তিনিই করে থাকেন। হাতুরে এই বিশেষজ্ঞের ভূলভাল হাড়জোড়া ব্যান্ডেজের শিকার হয়ে কেউ কেউ সীমাহীন ভোগান্তির শিকারও হচ্ছেন অহরহ। হাসপাতালে ইনডোর-আউটডোর, বিভিন্ন ফার্মেসিতে,এবং কখনও দূরবর্তী স্থানে গিয়েও তাকে এই কাজ করতে দেখা যায়। জামালগঞ্জের একটি মার্কেটে তার স্ত্রীর নামে পরিচালিত একটি থাইগ্লাসের ব্যবসায়িক দোকানও রয়েছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ২৪/১২/১৯৯১ সালে তিনি জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ডবয় হিসেবে যোগদান করেন। অদ্যাবধি প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি একই কর্মস্থলেই বহাল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে তিনি জড়িয়ে পড়েন বহুমূখী ব্যবসায়িক কর্মকান্ডে। এনিয়ে রোগীদের মাঝে সমালোচনা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। একটি সরকারি চাকরির দায়িত্বে থেকে তিনি বহুমূখী ব্যবসাসহ চিকিৎসা বিষয়ক ঝুকিপূর্ণ কাজসহ নানামুখী ব্যবসায়িক অনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত থেকে কিসের জোরে কিভাবে মাসে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করেন তা সাধারণের মাঝে বোধগম্য নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কতিপয় সংবাদকর্মী ও বিএনপি পন্থী স্থানীয় জনৈক নেতার আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে থেকে তিনি সব ধরণের অপকর্ম করে আসছেন।
এব্যাপারে শাহ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যারেরা আমাকে দিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হাড়ভাঙ্গা, জখম, প্রভৃতি ব্যান্ডেজ-প্লাস্টার করান; তাই আমি করি।
এব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.নিয়াজ মোর্শেদ তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাহ আলম ওয়ার্ডবয়। তাকে দিয়ে এসব কাজ করাই না। হাড়ভাঙ্গা বা এরকম কোন রোগি এলে আমরা জেলা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই। তবে সে যদি হাসপাতালের বাহিরে এসব করে থাকে তবে আমরা এজন্য দায়ী নই।
আ/রি