
তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)সংবাদদাতা।। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলাটি হাওর বেষ্টিত ভাটির জনপদ হিসিবে পরিচিত হলেও পর্যটন খাতে পুরো দেশ জুড়ে এর বেশ সুনাম আছে। সুনামগঞ্জ জেলার ক্ষেত্রে লোক মুখে একটি প্রাবদ আছে যে, মৎস-পাথর-ধান, সুনামগঞ্জের প্রাণ। এই প্রবাদ বাক্যটি সুনামগঞ্জ জেলার ক্ষেত্রে হলেও পুরোপুরি মিল পাওয়া যায় তাহিরপুর উপজেলার ক্ষেত্রে। হাওর ও সীমান্ত ঘেষা তাহিরপুর উপজেলাটি শিক্ষা, দীক্ষা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নাগরিকের মৌলিক নানা সুযোগ সুবিধায় পিছিয়ে থাকা একটি উপজেলা।
এ উপজেলায় প্রায় ৩ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর বসবাস। কিন্তু ওই ৩ লক্ষাধিক গনগণের চিকিৎসা সেবা দৌযঅর জন্য চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ৫ জন। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারনে বেহাল হয়ে পড়েছে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা। যেখানে ৩ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা দেবার জন্য চিকিৎসক থাকার কথা ১৩ জনে। কিন্তু ১৩ চিকিৎসকের স্থলে সেবা দিচ্ছেন ৫ জন চিকিৎসক। যার ফলে যতাযত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ উপজেলার হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী। ৩ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর সেবা দিতে গিয়ে ৫ জন চিকিৎসক হিমশিম খাচ্ছেন। সে কথাই জানিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকবৃন্দ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টি শুরু থেকেই ৩০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছিল।
গত ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ তারিখ হতে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। উন্নীত হওয়ার পূর্বে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কখনো ২ জন, কখনো ৩ জন চিকিৎসকের উপস্থিতি ছিল। উন্নীত হওয়ার পর ৩৯ তম বিসিএস এর ৬ জন চিকিৎসক একসাথে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগ দেয়ার পর পর্যায়ক্রমে ৩ জন চিকিৎসক অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে যান এবং ৩ জন এখনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। নতুন নিয়োগকৃত ৩ জন, পূর্বের ১জন ও ডিজির আদেশক্রমে ১জন সহ মোট ৫ জন চিকিৎসক উপস্তিত থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা থাকলেও তিনি মাসের অধিকাংশ সময় অফিসয়িাল কাজকর্ম,মিটিং,সেমিনার নিয়ে ব্যাস্ত থাকছেন।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বালিজুরী, বাদাঘাট, উত্তর বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর, তাহিরপুর সদরসহ ৭টি ইউনিয়নের ভিবিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক গণ।
এসময় কথা হয় ৩৬ তম বিসিএসএ তাহিরপুরে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে যোগদানকৃত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার সুমন চন্দ্র বর্মনের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, গত কিছুদিন পূর্বে ৬ জন ডাক্তার একসাথে যোগদান করেছিলেন। ৩ জন চিকিৎসক তদবির করে অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেছেন। আমরা যারা উপস্তিত রয়েছি সবাই চেষ্ঠা করছি সঠিকভাবে স্বাস্থ্য সেবা দিতে। তিনি আরো জানান, ১৩ জন চিকিৎসকের স্থলে আমরা ৫ জন চিকিৎসা দিচ্ছি, সেহেতু চাপটা একটু বেশীই। তবু আমরা চেষ্ঠা করছি সবার চিকিৎসা সেবা দিতে।
উপজেলার দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের বড়দল গ্রাম থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা জাবেদা বেগম (৫৬) এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, হাসপাতালে মহিলা ডাক্তার থাকায় আমরা মন খোলে রোগের কথা বলতে পারছি। তিনি আরও জানান প্রতিটি হাসপাতালে দু’একজন মহিলা ডাক্তার থাকা খুবই দরকার।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন জানান, কিছুদিন পূর্বেও অনেক চিকিৎসক ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ৩ জন চিকিৎসক অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিশশিম খাচ্ছেন বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসক গণ।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইকবাল হোসেন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার থাকাতে চাননা। নতুন নিয়োগ দিলেও তারা যোগদানের দিন থেকে অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্ঠা করে। আমরা যারা এখানে আছি প্রত্যেকেই চেষ্ঠা করছি আমাদের সেবাটুকু দেয়ার।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে ৮ টি পদই শুন্য রয়েছে। শুন্য পদগুলো হলো, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ১জন, ডেন্টাল ১জন, কনসালট্যান্ট ৪জন (সার্জারী, মেডিসিন, গাইনী, এ্যনেস্থেশিয়া) ও ইউনিয়ন মেডিকেল অফিসার ২ জনের পদ শুন্য রয়েছে।
এবিষয়ে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন মো. শামস উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকে বলেন, ৬জন চিকিৎসক যোগদান করে ৩জন কি কারনে অনত্র বদলি হয়ে চলে গেছেন তা আমার জানা নেই। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য শীগ্রই চিঠি লিখব।